ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে অন্যতম ফেভারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। হাঁটুতে চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, মাঠে তার কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি। তার গোলেই ম্যাচে শুরুতে লিড পায় ফরাসিরা।ফক্সবোরোর এই মাঠেই বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ে এবং আর্লিং হ্যালান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স। গত বৃহস্পতিবার ৬৬ হাজার ২১৫ জন দর্শকের উপস্থিতিতে (যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ব্রাজিল সমর্থক) এমবাপ্পে এবং হুগো একিতিকের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। পরবর্তীতে ৭৮ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে একটি গোল শোধ করেন ব্রেমার।স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফক্সবোরো শহর এবং বিশ্বকাপ আয়োজকদের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগে আয়োজক কমিটি অগ্রিম অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিলে এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে এবং প্রীতি ম্যাচটি বিনা বাধাতেই সম্পন্ন হয়। ২০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরটিতে ফিফার নিয়ম মানতে এনএফএল-এর কৃত্রিম টার্ফের পরিবর্তে নতুন ঘাসের মাঠ তৈরি করা হয়েছে।
জিলেট স্টেডিয়ামে দর্শকদের এই উপস্থিতি ছিল ফুটবল ম্যাচের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (২০০৭ সালে ব্রাজিল-মেক্সিকো ম্যাচের পর)। গ্যালারির বেশিরভাগই ছিল ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে পূর্ণ, ফরাসি পতাকা উড়তে দেখা গেছে খুব কমই। ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন এনবিএ দল বোস্টন সেলটিক্সের কোচ জো মাজুল্লা এবং খেলোয়াড়রা। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মউরা হিলির সাথে মিলে ম্যাচের আগে কয়েন টস করেন বাস্কেটবল তারকা জেসন ট্যাটাম।
রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপ্পে গত ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। জানুয়ারিতে খেললেও এরপর প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান,"চোটের বিষয়টি এখন সম্পূর্ণ অতীত"। ৩২তম মিনিটে উসমান ডেম্বেলের দুর্দান্ত এক থ্রু বল পেয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়িয়ে সেটিই প্রমাণ করেন ২০১৮ বিশ্বকাপের এই চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ী তারকা।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে সরাসরি গোলমুখে থাকা এক ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়কে ফাউল করায় ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর ফ্রান্সের দায়োত উপামেকানোকে লাল কার্ড দেখানো হয় (মাঠে প্রথমে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়েছিল)। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও ৬৫ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন চলতি মৌসুমে লিভারপুলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হুগো একিতিকে। এই গোলের পরপরই এমবাপ্পেকে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয়।
এরপর ৭৮ মিনিটে লুইজ হেনরিকের ক্রস থেকে লক্ষ্যভেদ করে ব্রাজিলের হয়ে ব্যবধান কমান ব্রেমার। তবে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মাইনান আর কোনো বিপদের সুযোগ না দিলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা।
ম্যাচটিতে ঠান্ডা আবহাওয়া (১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং জলপানের জন্য একটি "কুলিং ব্রেক" দেওয়া হয়। গত ক্লাব বিশ্বকাপে দাবদাহের পর ফিফা ঘোষণা করেছিল যে,২০২৬ বিশ্বকাপের সব ম্যাচেই তাপমাত্রার অবস্থা যেমনই হোক না কেন, এই ব্রেক রাখা হবে।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স এবং ব্রাজিল উভয় দলই যদি নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়,তবে টুর্নামেন্টের ফাইনালেই কেবল বিশ্ব ফুটবলের এই দুই পরাশক্তির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।