Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ২৬ মার্চের প্রত্যাশা

ড. মো. মেসবাহ উদ্দীন ড. মো. মেসবাহ উদ্দীন
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ,২০২৬, ১২:৪৭ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ,২০২৬, ০১:৪৮ এ এম
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ২৬ মার্চের প্রত্যাশা

ইতিহাসের ত্রিমাত্রিক মোহনা ও দ্বিতীয় স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটবাংলাদেশের ইতিহাসের মহাকাশে ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪—এই তিনটি বছর এখন থেকে একই সূত্রে গাথা উজ্জ্বলতম নক্ষত্রপুঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছিল সাংস্কৃতিক ও ভাষার অধিকার, একাত্তর দিয়েছিল একটি স্বাধীন ভৌগোলিক মানচিত্র, আর ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের দিয়েছে সেই মানচিত্রে মানুষের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা'। আজ স্বাধীনতার ৫৪তম বর্ষে দাঁড়িয়ে ২৬ মার্চ আমাদের কাছে কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ বা আনুষ্ঠানিক স্মৃতিচারণের দিন নয়, বরং এক নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের কঠিন শপথের দিন। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সরকারের কাঁধে আজ পাহাড়সম প্রত্যাশার চাপ। এই সরকার কোনো সাধারণ গণতান্ত্রিক পালাবদলের ফসল নয়, বরং এটি হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক ঐতিহাসিক 'নৈতিক ম্যান্ডেট', যা রাষ্ট্র মেরামতের এক দুর্লভ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এবারের স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

 

জুলাই অভ্যুত্থান: একটি চেতনার পুনর্জাগরণ

দীর্ঘ দেড় দশকের এক দমবন্ধ করা গুমোট পরিবেশ থেকে মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান। একাত্তরের ২৬ মার্চ আমরা পেয়েছিলাম একটি স্বাধীন মানচিত্র, কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সেই মানচিত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার আর ন্যায়বিচার যেন ধূসর হয়ে পড়েছিল। জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ছাত্র-জনতা যখন রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একটি সাম্য ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অসম্পূর্ণ কাজগুলো—অর্থাৎ মানুষের মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই নতুন করে জীবন পেয়েছে। এবারের স্বাধীনতা দিবস তাই কেবল উৎসবের নয়, বরং এক গভীর আত্মোপলব্ধির দিন। এই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে, রাষ্ট্র যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ নিজেই নিজের ভাগ্য বদলে দেওয়ার শক্তি রাখে। সেই শক্তিকে সম্মান জানানোই হবে নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব।বিচারের সংস্কৃতি ও শহীদের রক্তের দায়বদ্ধতাএকটি আদর্শ জাতির মেরুদণ্ড হয় তার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা। গত দেড় দশকে বাংলাদেশে যে ভয়ের সংস্কৃতি, গুম ও বিচারহীনতার অন্ধকার জেঁকে বসেছিল, তা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়াই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য। নতুন সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদীসহ সকল পরিচিত-অপরিচিত শহীদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা। শহীদের তালিকা প্রণয়ন থেকে শুরু করে তাদের পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। একইসাথে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিচার কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শাসক স্বৈরাচারী হওয়ার দুঃসাহস না দেখায়, তার একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। বিচারের বাণী যেন আর নিভৃতে না কাঁদে, সেই নিশ্চয়তা এবারের ২৬ মার্চের প্রধান দাবি।রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতানির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা কেবল পাঁচ বছরের প্রথাগত শাসন নয়, বরং তারা এমন এক টেকসই ব্যবস্থা চায় যেখানে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি হবে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার আজ সময়ের দাবি।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একক ও অপ্রতিহত ক্ষমতা কমিয়ে সংসদকে প্রকৃত অর্থে কার্যকর করা এবং প্রয়োজনে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যেমন—নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করতে হবে। সরকার পরিবর্তন হলেও যেন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, তবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো কখনোই ভেঙে পড়বে না। এছাড়া প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা একান্ত প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের নাগরিক অধিকার ও সেবা পাওয়ার জন্য রাজধানীমুখী না হয়ে নিজ এলাকায় সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। লুণ্ঠনমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কাররাজনৈতিক স্বাধীনতার চেয়েও আজ মানুষের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে টেকসই অর্থনৈতিক মুক্তি।

গত এক দশকে দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অভাবনীয় অরাজকতা ও লুটপাট হয়েছে, তা দূর করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ব্যাংক কমিশন গঠন করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সেই অর্থ জনস্বার্থে ব্যবহারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা মুদ্রানীতি এবং তদারকি ব্যবস্থায় কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করতে পারে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অর্থ পাচারের সংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে দেশের অর্থনীতি কখনোই স্বাবলম্বী হতে পারবে না।

বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল

সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের প্রধান সংকট হলো অস্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও আজ সাধারণ মানুষকে এক কেজি চাল বা ডালের দামের জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়। বিভিন্ন সময় যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য সাধারণের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়, সেই রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সরবরাহ চেইনকে স্বচ্ছ ও আধুনিকায়ন করে উৎপাদক এবং ভোক্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব হবে। বাজারের প্রতিটি স্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। কৃষকের ঘাম আর শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত পণ্য যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে না যায়, সেই লক্ষ্যে সরকারি তদারকি বাড়াতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাটাই হবে নতুন সরকারের জনপ্রিয়তার অন্যতম মাপকাঠি।

পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়

জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণের অন্যতম বড় দাবি হলো দেশ থেকে পাচার হওয়া কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স ও বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে কার্যকরী সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। এই অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তা দেশের ভঙ্গুর রিজার্ভকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি মেগা প্রকল্পগুলোর ঋণের বোঝা কমাতে সহায়ক হবে। নতুন সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে বিদেশে আশ্রিত অর্থপাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি জাতির সম্মানের প্রশ্ন। পাচার হওয়া সম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যয় করার মাধ্যমেই প্রকৃত অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন সম্ভব।নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও যুবশক্তির ক্ষমতায়নজুলাই অভ্যুত্থান আমাদের উপহার দিয়েছে এক অদম্য ও ভয়হীন তরুণ প্রজন্ম, যারা প্রচলিত লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখে। এই নবনির্বাচিত সরকারকে একটি ইতিবাচক ও উন্মুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে মেধাবী ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরির পথ উন্মুক্ত করা এখন অপরিহার্য। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও গণতন্ত্র চর্চা শুরু করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বিদ্যমান সকল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে তরুণদের আইটি সেক্টরে দক্ষ করে তোলা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বের আইটি হাব হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষা

গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। গত এক দশকে বিভিন্ন কালাকানুন বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইনের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠরোধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তার অবসান হওয়া প্রয়োজন। নবনির্বাচিত সরকারকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম যেন কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখা সুস্থ গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার অঙ্গীকারএকাত্তরের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার, যা গত কয়েক দশকে দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। নতুন বাংলাদেশকে অবশ্যই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘু তকমা চিরতরে মুছে ফেলে সবাইকে 'বাংলাদেশি নাগরিক' হিসেবে একক পরিচয় ও মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে এবং একটি বহুত্ববাদী সমাজ গঠন করতে হবে। প্রতিটি নাগরিক যেন তার নিজ ধর্মে বা বিশ্বাসে পূর্ণ নিরাপত্তা অনুভব করে, সেই পরিবেশ রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হবে।পররাষ্ট্র নীতি ও জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার

স্বাধীনতার ৫৪তম বর্ষে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে তার পররাষ্ট্র নীতিতে নতুন করে ভারসাম্য আনতে হবে। 'সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়'—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার না করে সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে। বিশেষ করে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে নতুন সরকারকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মানবাধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও দক্ষ কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই।পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

২৬ মার্চ আমাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে সেই অর্জনকে অর্থবহ ও রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে যে, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন, তারা জুলাইয়ের সেই উত্তাল রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ছাত্র-জনতার স্বপ্নের পবিত্র আমানতদার।

বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নদ-নদী দখলমুক্ত করা এবং বনভূমি রক্ষা করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে নতুন সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সবুজ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে এবারের ২৬ মার্চে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আত্মশুদ্ধি ও আগামীর বাংলাদেশ২০২৬ সালের এই ২৬ মার্চ আমাদের পুনরায় মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে সেই অর্জনকে অর্থবহ ও রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে যে, তারা কেবল একটি নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন, তারা জুলাইয়ের সেই উত্তাল রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ছাত্র-জনতার স্বপ্নের পবিত্র আমানতদার। শহীদদের রক্তস্নাত এই জনপদে যদি আজও পুরোনো পন্থায় দুর্নীতি, বাজার সিন্ডিকেট বা লুটপাটের সংস্কৃতি বজায় থাকে, তবে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর বিশ্বাসঘাতকতা।তাই এবারের স্বাধীনতা দিবস হোক আত্মতুষ্টির পরিবর্তে গভীর আত্মশুদ্ধির। জুলাইয়ের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বনির্ভর ও মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলাই হোক এই নির্বাচিত সরকারের মূল অঙ্গীকার। একাত্তরের অসম্পূর্ণ বিপ্লব চব্বিশের স্পিরিট দিয়ে সম্পন্ন করার মাধ্যমেই আমরা বিশ্বদরবারে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। শহীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়—এই শপথই হোক ৫৪ বছরের স্বাধীনতা দিবসের একমাত্র প্রতিপাদ্য।

লেখক: গবেষক ও ব্যাংকার

*মতামত লেখকের নিজস্ব

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)