নিজস্ব প্রতিবেদক
এনজিওতে চাকরি ও মোটা অঙ্কের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘মহাপ্রতারক’ মাহমুদা জামান-এর বিরুদ্ধে আদালতে আরও ৮টি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) যশোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ অভিযোগগুলো নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামি মাহমুদা জামান যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের ডাক্তার মুনসুর আলীর মেয়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার চকবাজার দ্বিগুবাগ লেনের বাসিন্দা। এর আগে প্রতারণার অভিযোগে সাধারণ জনগণ তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেছিল।
মামলার বাদী ও অভিযোগের বিবরণ: আদালতে পৃথকভাবে মামলা করেছেন ৮ জন ভুক্তভোগী।
ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাবু গাজীর স্ত্রী দীপু খাতুন উল্লেখ করেন, এনজিওতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পদে চাকরির প্রলোভনে মাহমুদা জামান তার কাছ থেকে দুই দফায় ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সদর উপজেলার চাঁদপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে শুকুর আলী অভিযোগ করেন, ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ও ব্যাংকের ৩টি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে।
বাউলিয়া গ্রামের আইনুদ্দীন গাজীর ছেলে ইমরান হোসেন জানান, ঢাকার ‘ডায়মন্ড লাইফ’ নামে একটি এনজিওতে চাকরির কথা বলে তার কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মোকসেদ শেখের ছেলে সোহান হোসেন অভিযোগ করেন, ৫০ লাখ টাকা লোনের প্রলোভনে ৫ লাখ টাকা ও ব্যাংকের ৩টি ফাঁকা চেক হাতিয়ে নিয়েছেন মাহমুদা।
পূর্ব বারান্দী পাড়ার মৃত মুজাহিদ মুন্সীর ছেলে রমজানের অভিযোগ, লোনের কথা বলে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ও ৩টি ফাঁকা চেক নেওয়া হয়েছে।
হাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিনের কাছ থেকে লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও ৩টি ফাঁকা চেক নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।
ঝুমঝুমপুরের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইদুর রহমান রিপন জানান, ২ লাখ টাকা ও ৩টি ফাঁকা চেক নিয়ে তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
হামিদপুরের বজলুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, লোনের প্রলোভনে তার কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ও ৩টি ফাঁকা চেক নিয়েছেন মাহমুদা জামান।
আদালত সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।