বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
বসন্তের পড়ন্ত বিকেলে উলাশী ইউনিয়নের সমন্ধকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ আজ এক ভিন্ন আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক প্রীতি পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতি ও সেবার বার্তা দিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দর্শনের এক বলিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সংসদ সদস্য হিসেবে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। শার্শা উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রত্যেকের সেবক হিসেবে আমি কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য—সবার প্রতিনিধিত্ব করা।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের এক ক্ষত তুলে ধরেন। কন্যাদাহ, ধলদাহ, রামপুর ও লাউতারা এলাকার বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিগত ৩০ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষ এক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে এক পক্ষকে এলাকা ছাড়তে হয়, যা নতুন নতুন সন্ত্রাসের জন্ম দেয়। এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতেই হবে।”
বিশেষ করে কন্যাদাহবাসীর উদ্দেশে তিনি এক আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি আহ্বান জানান স্বৈরাচারী মনোভাব পরিহার করে ভালোবাসা ও সহনশীলতার মাধ্যমে ঐক্য গড়ার। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং সামাজিক ভ্রাতৃত্বই পারে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় সমাজ উপহার দিতে।
উলাশী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শেরশাহ-এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা জামায়াত সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার তৈয়েবুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার নেসার উদ্দীন, প্রভাষক তরিকুজ্জামান টনি, প্রভাষক মফিজুর রহমান, প্রভাষক রফিউদ্দিন রফি, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম ও আবুল খায়েরসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এমপি আজিজুর রহমান এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি এবং একটি সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক শার্শা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে আসা শত শত নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ দেয়। একটি শান্তিময় এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার যে স্বপ্ন আজ সমন্ধকাটির মাঠ থেকে উচ্চারিত হলো, তা শার্শার মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।