ধ্রুব ডেস্ক
১১৭ বছর বয়সী ইথেল ক্যাথারহ্যাম। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ব্রিটিশ নারী ইথেল ক্যাথারহ্যাম শুক্রবার তার ১১৭তম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন।
লন্ডন থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে সারে কাউন্টির একটি বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী ক্যাথারহ্যামই ১১৭ বছর বয়সে পৌঁছানো প্রথম ব্রিটিশ ব্যক্তি বলে জানিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
ক্যাথারহ্যাম যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা পিএ মিডিয়াকে বলেন, 'পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আমার জন্মদিন উদ্যাপনের দিনটি খুবই আনন্দের ছিল। আগামী বছর কী নিয়ে আসে, তা দেখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।'
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ জোয়াও মারিনহো নেতোও তার নিজ দেশ ব্রাজিল থেকে ক্যাথারহ্যামকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্যাথারহ্যামের ১১৬তম জন্মদিনের পরপরই তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
সেই সাক্ষাতে ক্যাথারহ্যাম ১৯৬৯ সালে তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস হিসেবে চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করেন। তখন চার্লসের বয়স ছিল ২১ বছর। ক্যাথারহ্যাম তাকে বলেছিলেন, 'সব মেয়েই আপনার প্রেমে পড়েছিল এবং আপনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।'
ক্যাথারহ্যামের ১১৭ বছরের জীবনের সময়কালে দুটি বিশ্বযুদ্ধ, টাইটানিক জাহাজডুবি, রুশ বিপ্লব এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, ২০২০ সালে ১১০ বছর বয়সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সুস্থ হয়ে ওঠা সবচেয়ে বয়স্ক মানুষদের একজন তিনি।
১৯০৯ সালের ২১ আগস্ট দক্ষিণ ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারের শিপটন বেলিঙ্গার এলাকায় আট ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাথারহ্যাম। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের শাসনামলে জন্ম নেওয়া জীবিত শেষ ব্যক্তি তিনিই।
১৮ বছর বয়সে একা ভারতে যান ক্যাথারহ্যাম। সেখানে তিনি একটি সামরিক পরিবারের শিশুদের দেখাশোনার কাজ করতেন। পরে ১৯৩১ সালে এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর নরম্যান ক্যাথারহ্যামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর দুই বছর পর তাদের বিয়ে হয়।
তারা সালিসবারিতে বসবাস করতেন। পরে তারা হংকংসহ বিভিন্ন দেশে যান। হংকংয়ে ক্যাথারহ্যাম একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তারা ব্রিটেনে ফিরে আসেন এবং দুই মেয়েকে বড় করে তোলেন। তবে তার দুই মেয়েই পরবর্তীতে মারা যান। তার স্বামী ১৯৭৬ সালে মারা যান।
ক্যাথারহ্যামের তিনজন নাতনি এবং পাঁচজন প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রয়েছেন।
এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ার পরও মানবজীবনের যাচাইকৃত সর্বোচ্চ আয়ুষ্কালের রেকর্ড থেকে ক্যাথারহ্যাম এখনো বেশ কিছুটা দূরে রয়েছেন।
এই রেকর্ডের অধিকারী ফরাসি নারী জ্যাঁ কালমঁ। তিনি ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর ১৬৪ দিন বয়সে মারা যান।