কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
কোটচাঁদপুর উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বদলিজনিত বিদায় নিচ্ছেন দীপা রানী সরকার। স্থানীয়রা মনে করেন, তার সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কঠোর অবস্থান এবং শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অনেকদিন স্মৃতি হিসেবে থাকবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে কর্মকালে সরকারি ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা গ্রহণে স্বচ্ছতা আনা, স্থানীয় বাজার দর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ বালি উত্তোলন ও জলমহাল দখল রোধে একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরাসরি কথা শোনা ও সরকারি দপ্তরের হয়রানি কমাতে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করতেন এই কর্মকর্তা।
বিশেষ করে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা ছিল লক্ষণীয়। প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি দুস্থ ও অসহায় মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় সরকারি সহায়তার দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেন।
তাঁর বদলির আদেশ জারির পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর গ্রহণ করা পদক্ষেপগুলো উদাহরণ হিসেবে থাকবে।
কোটচাঁদপুর ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে স্থানীয়রা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে এই ধারাবাহিক নিষ্ঠা ও প্রশাসনিক দক্ষতা তিনি পরবর্তী কর্মস্থলেও বজায় রাখবেন।