ধ্রুব রিপোর্ট
❒ সংবর্ধিত চার ক্ষুদে শিক্ষার্থী ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের চিরচেনা সেই সবুজ চত্বর আজ শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মুখর ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল এক গর্বিত জননীদের মিলনমেলা। দীর্ঘ সময় পর পুরোনো বান্ধবীদের কাছে পেয়ে যখন সবাই আবেগে আপ্লুত, ঠিক তখনই মঞ্চে উঠে এলো চার শিশু—যাদের সাফল্যে আজ গোটা যশোর গর্বিত।
শনিবারের সকালটি শুরু হয়েছিল এক অন্যরকম স্নিগ্ধতায়। কলেজের মূল ফটক থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র্যালিটি যখন যশোর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছিল, তখন সবার চোখেমুখে ছিল সেই হারানো দিনগুলো ফিরে পাওয়ার আনন্দ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এরপরই শুরু হয় স্মৃতিচারণা—যেখানে উঠে আসে ক্লাসরুমের সেই চঞ্চলতা, আড্ডা আর শিক্ষকদের কড়া শাসনের আড়ালে থাকা ভালোবাসার গল্পগুলো।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন মঞ্চে সংবর্ধনা দেওয়া হয় বিটিভির ‘নতুন কুঁড়ি’তে দেশসেরা হওয়া চার ক্ষুদে প্রতিভা—সাবিক সাদত, আয়ান রেজা, আয়েশা সিদ্দিকা এবং অরশী বিশ্বাস পৃথাকে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা, যারা আজ অনেকেই মা হিসেবে নিজ নিজ সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন, তাদের সামনে এই শিশুদের সাফল্য তুলে ধরা ছিল এক ইতিবাচক বার্তা। সংবর্ধিত শিশুদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত শত শত মায়ের চোখে ছিল গর্বের ঝিলিক। এই দৃশ্য যেন উপস্থিত প্রতিটি প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মনে এই বিশ্বাস জাগিয়ে তুলল, সঠিক পরিচর্যা পেলে তাদের সন্তানরাও একদিন বিশ্বজয় করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং যশোর সরকারি সিটি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক নার্গিস বেগম যখন মঞ্চে দাঁড়ালেন, তিনি যেন কোনো বড় নেতা নন, বরং একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে অনুজদের উদ্দেশ্যে কথা বললেন। তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন আজ আমাদের মেয়েদের হাত ধরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু এই পথকে আরও সুগম করতে হলে আজ আপনাদের সন্তানদের মনে স্বপ্নের বীজ বপন করতে হবে।’ তিনি উপস্থিত মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের ভেতর লুকিয়ে থাকা সুপ্ত শক্তিকে চিনতে শিখুন। তাদের শুধু প্রতিযোগিতার দৌড়ে না নামিয়ে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলুন, যেন তারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে আত্মনিয়োগ করতে পারে।
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অধ্যাপক অশোকা রানী দত্তের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান ফারুক, উপাধ্যক্ষ,অধ্যাপক আলাউদ্দীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,রসায়ন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, লুৎফর রহমান। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফিরোজা বুলবুল কলি। সঞ্চালনা করেন রুহি শামসাদ আরা।
আলোচনা সভার পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান, কবিতা ও নাচে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস। প্রবীণ শিক্ষক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এই মহামিলনে এক সেতুবন্ধন তৈরি হয়।