Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আদালতকে যা বললেন মামুন খালেদ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ,২০২৬, ১০:৪৫ এ এম
আদালতকে যা বললেন মামুন খালেদ

ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ ছবি: ধ্রুব নিউজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ফল ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তাঁর সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন মামুন খালেদ। আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে মামুন খালেদ দাবি করেন, ‘এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেবের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’

এর আগে গত বুধবার মধ্যরাতে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এক-এগারোর আলোচিত আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

মামুন খালেদকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ৫০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী হামলা চালায়। তখন শেখ মামুন খালেদের আদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। এই মামলায় মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারভুক্ত অন্য আসামি গ্রেপ্তার, অচেনা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। 

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন সে সময়ের বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে যান। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যা বললেন 
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘এই আসামির আগের রাজনৈতিক ইতিহাস সবাই জানেন। এক-এগারোর সময়কার কুশীলবদের একজন তিনি। তখন তিনি ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন।’ 

ওমর ফারুক ফারুকী আরও বলেন, ‘সে সময় এ আসামি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং হেনস্তা করেন। পরে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যারা সহযোগিতা করছিল, তার মধ্যে তিনি একজন। যার পুরস্কারস্বরূপ ডিজিএফআই প্রধান হন।’ 

ওমর ফারুক বলেন, ‘ডিজিএফআই প্রধান হওয়ার পর শেখ মামুন আয়নাঘর তৈরি করেন, যেখানে অত্যাচার করা, গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা অপরাধ করেন। পাশাপাশি ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরণ করার কুশীলবও তিনি।’ 

শেখ মামুনের বিরুদ্ধে জলসিঁড়ি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা তুলে ধরে সরকারি এই কৌঁসুলি বলেন, যে কারণে এরই মধ্যে আদালত তিনি ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, যে কারণে শেখ হাসিনা তাঁকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেন। অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে যুক্তি দেন আসামির পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম পাখি।  মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, ‘মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই। বাদী সেখানে নির্দিষ্টভাবে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন।
‘উচ্চ আদালতের আদেশে বলা আছে, যে কোনো মামলা হতে হলে নির্ভরযোগ্য চারটি কারণ থাকতে হবে, তার একটিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। মামুন খালেদ ওইসময় একজন চাকরিজীবী ছাড়া কিছু ছিলেন না।’

নজরুল ইসলাম পাখি বলেন, ‘আসামি মামুন খালেদ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। বিভিন্ন পদে  চাকরি করেছেন। একটা পদেও আইনবহির্ভূতভাবে সুবিধা নেননি। আয়নাঘরের দায়িত্বে তিনি ছিলেন না।’ 

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের অনেক আগে মামুনের অবসরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সেই বাসা উচ্ছেদে অন ডিউটিতে ছিলেন। এ ছাড়া মামলার যে ঘটনার স্থান, সেখানে তিনি ছিলেন না। মামলায় তাঁর বয়স ৬৩ দেখানো হয়েছে; কিন্তু বয়স আরও বেশি। সুতরাং তাঁকে রিমান্ডে দেওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’ 

রিমান্ড শুনানিতে খালেদ যা বললেন
আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন মামুন খালেদ। তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় ছিলাম। শেখ হাসিনার সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন, সবাই বিদেশে। তিনি আদালতকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, আমি তখন সাধারণ বেসামরিক ব্যক্তি। আমি ডিওএইচএসেই ছিলাম। আমার বাসায় একটি ছোটখাটো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে এবং আমি সেটির চেয়ারম্যান। আমাদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ হচ্ছে কালশী ফ্লাইওভার, মিরপুর-১০ নম্বরের পথে যাওয়ার কোনো কারণ বা প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, ডিওএইচএসের বাইরে যাইনি। ২০২৪ সালে আমার কথামতো কে গুলি করবে? তখন আমি সিভিলিয়ান। সুতরাং আমাকে রিমান্ডে নেওয়া বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য হিসেবে আমি চার বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আমার হাত ধরেই সেখানে ১৭টি বিষয় এবং পাঁচটি অনুষদ চালু হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যদি ছাত্ররা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের উপাচার্যের মাধ্যমেই অনুপ্রাণিত হয়েছে।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নিজের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে আমি ডিজিএফআই ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে যোগ দিই, যারা মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করে। সেখানে জুলাই পর্যন্ত কাজ করার পর আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিটি মামলায় জামিনের ক্ষেত্রে আমি সরাসরি বিচারকের কাছে টেলিফোন করতাম। আমাদের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতো।

‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দুই-তিনবার তিনি গুম কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনকালে কোনো গুমের অভিযোগ ছিল না। তিনি বলেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মতিউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাকিম স্যারকে আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন; ওই সময়ে আমাদের যে শাখাটি ছিল (যা পরবর্তী সময়ে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে), সেখানে কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেনি।

মামুন খালেদ বলেন, শেখ হাসিনার সময়ের সাতজন ডিজিএফআইপ্রধানের মধ্যে পাঁচজনই বিদেশে আছেন। আমি যদি কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতাম, তাহলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরতাম না। আমার মেয়ে পিএইচডি করছে, তাকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি জুলাইয়ে বিদেশে গিয়েছিলাম এবং আবার ফিরে আসি। আমার মনে যদি কোনো সংশয় বা ভয় থাকত, তবে আমিও অন্যদের মতো বিদেশে থেকে যেতে পারতাম।

জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পে নজরুল সাহেবের দেড় হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে। জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া আমাকে এই টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যা তিনি ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন। আমি সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছি। 

কে এই মামুন খালেদ
ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগসহ এক-এগারোর সময় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মামুনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন। 

পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে শেখ মামুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন। প্রায় দেড় বছর এই দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আকবর হোসেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় মামুন খালেদ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপাচার্য ছিলেন। পরে অবসরে যাওয়ার আগে তিন তারকা জেনারেল হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে মাসে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রীসহ শেখ মামুন খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। তখন দুদক তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ-সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)