❒ উলশীর ঐতিহাসিক স্মৃতি ফেরাতে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিবেদক
শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য উলশী খাল ছবি: সংগৃহীত
উলশীর ঐতিহাসিক স্মৃতি ফেরাতে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যশোরে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪০টি খালের একটি সমন্বিত পুনঃখনন কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকা খাল খনন পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য ‘উলশী খাল’ পুনঃখননের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা করা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আশা করছে, শহীদ রাষ্ট্রপতির ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ঐতিহাসিক খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী জেলার ৮টি উপজেলার যে ২২টি খাল পুনঃখননের তালিকা তারা দপ্তরে পাঠিয়েছেন তার মধ্যে যশোর সদরের ৪টি , বাঘাপাড়ার ২টি , অভয়নগরের ২টি, চৌগাছার ২টি, ঝিকরগাছার ৩টি, শার্শার উলাশি খাল বা জিয়াখালসহ ৩টি , কেশবপুরের একটি এবং মণিরামপুরের ৩টি খাল রয়েছে। মোট ৫৬ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার খাল খননে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি টাকা। খালগুলোর মধ্যে আছে - অভয়নগরের শূরা খাল ২.৫ কিলোমিটার, সদরের জিয়া খাল ৩ কিলোমিটার,ডোলপুর মুক্তেশ্বরী খাল ৩ কিলোমিটার, মনোহরপুর খাল ৩.৫ কিলোমিটার, রাঘবপুর খাল ২.৫ কিলোমিটার, বাঘারপাড়ার বড়ক্ষুদ্র খাল ২ কিলোমিটার, নাউলি খাল ৩ কিলোমিটার, রামনগর খাল ৩ কিলোমিটার, কান্দিবরো বিল হতে ভৈরব পর্যন্ত খাল ২ কিলোমিটার, বাঘারপাড়ার খলশির খাল ৪.১ কিলোমিটার, ফুলবাড়ি খাল ২ কিলোমিটার, রাধানগর স্লুইস গেট হতে রাজাপুর খাল ২ কিলোমিটার, কাগমারি খাল ৩ কিলোমিটার, আমলাই সেতাই খাল ৪.২৭ কিলোমিটার, পাকশিয়া খাল ৩ কিলোমিটার, উলাশি খাল ৪ কিলোমিটার, মেহেরপুর খাল ৩.৫ কিলোমিটার, কুমাসিঙ্গা খাল ১.৫ কিলোমিটার, হরিদাসকাটি খাল ২ কিলোমিটার, বাশিয়ারা খাল ৩.১ কিলোমিটার।
এদিকে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা ৮ উপজেলার পুনঃখননযোগ্য ১৮টি খালের তালিকা প্রেরণ করে। এরমধ্যে ৯টি খাল প্রথম পর্যায়ে খননের জন্য অনুমেোদন পেয়েছে। সে খালগুলো হলো-কেশবপুরের আলতাপোলের বড়পিট খালের ৩ কিলোমিটার, একই উপজেলার খোঁজাখালী খাল ২ কিলোমিটার, বাঘাপাড়ার মির্জাপুরে চিত্রা নদীর মাথা থেকে ধান্যপুড়ার বিল পর্যন্ত খাল ২ কিলোমিটার, একই উপজেলার ক্ষেত্রপালা চিত্রা নদীর মাথা থেকে ৩ কিলোমিটার জয়পুর পর্যন্ত, যশোর সদরের সিরিজ খাল ৩ কিলোমিটার, মণিরামপুরের মশ্মিমনগর খাল ১ কিলোমিটার, একই উপজেলার মোবারকপুর খাল ০.৫ কিলোমিটার, শার্শার উলাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে যদুনাথপুর বেতনার ত্রিমুখ পর্যন্ত জিয়ার খাল ৪ কিলোমিটার, একই উপজেলার কন্যাদহ আয়নালের বাড়ি হতে মাকলার বিলের তিন খালের মুখ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার।
এই ৯টি খালের সাড়ে ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত খাল খনন বা পুনঃখননের প্রস্তাব পাস হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে ১৮টি খালের খনন বা পুনঃখননের প্রস্তাব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল।
গত রোববার বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জেলার প্রথম আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উলশী খালসহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় যশোরের খননকৃত খালগুলো পুনঃখনন করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি ওই সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন। এ সময় তিনি সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরকে প্রতিটি উপজেলায় খনন বা পুনঃখনন করার উপযোগী খালের তালিকা করারও নির্দেশ দেন। কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত অংশগ্রহণে খননযোগ্য ও প্রয়োজনীয় এই খালের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিতে বলেন।
পাউবোর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, সরকারের খাল খনন কর্মসূচির জন্যে প্রস্তুত যশোর। বিশেষ করে সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে উলাশি খাল খনন হয়, এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর হাত দিয়ে ওই খালের পুনঃখননের মাধ্যমে যশোরে সরকারের খাল কর্মসূচির বাস্তবায়ন করতে চাই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানোও হয়েছে। ২২টি খালের খনন অনুমতি পেলে দরপত্র আহ্বান, ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন করে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে আমরা কাজ শুরু করতে চাই।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আমরা তো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য খাল খননের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে চাই। তবে তিনি অনেক ব্যস্ত মানুষ। তিনি সময় দিলে আমাদের আশা বাস্তবায়িত হবে। পাউবো ২২টি খাল খনন বা পুনঃখননের তালিকা করেছে। সোমবার দুর্যোগ মন্ত্রণালয় আমাদের ত্রাণ ও দুর্যোগ শাখার প্রেরিত ১৮টি খালের মধ্যে ৯টি অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া পৌরসভা ও উপজেলা থেকে পাওয়া আরও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে যশোর জেলায় মোট খননযোগ্য খালের হিসেব নির্ধারিত হবে। এর আগে জেলার প্রথম আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমরা সব ইউএনওদের নির্দেশ দিয়েছি তালিকা প্রস্তুত করার। সব মিলিয়ে বলতে পারি যশোর প্রস্তুত, এখন দরকার সরকারের নির্দেশনা।