মো. রমজান আলী, বেনাপোল, যশোর থেকে
ঈদের নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই বেতন-বোনাস দেওয়া হল বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫’এর শ্রমিকদের। ছবি: ধ্রুব নিউজ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। একটু ভালো পোশাক আর একটু ভালো খাবার কিনতে সকলে ব্যস্ত। ঠিক এমনি এক সময়ে দুশ্চিন্তার পরিবর্তে বুকভরা প্রশান্তি মিলল বেনাপোল স্থলবন্দরের শত শত শ্রমিকের মুখে। পরিবারের জন্য ঈদের নতুন পোশাক আর সেমাই-চিনির আবদার মেটানোর চিন্তায় তাদের কপালে ভাঁজ পড়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষের মানবিক সিদ্ধান্তে অভাবনীয় এক স্বস্তি ফিরে পেলেন তারা । নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই বেতন-ভাতা ও বোনাস হাতে পেলেন বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর শ্রমিকেরা।
আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টায় যখন বন্দরের ১ নম্বর শেডের শ্রমিক মিটিং কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন অনেকের চোখেই ছিল কৃতজ্ঞতার ছাপ। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধের যে নৈতিক শিক্ষা, তারই যেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো আজ। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলীর নেতৃত্বে এই অর্থ বিতরণ করা হয়।
শ্রমিকদের ঘামে ভেজা পরিশ্রমের টাকা হাতে পেয়ে আবেগ আপ্লূত সাধারণ শ্রমিক সাহাদত হোসেন বলেন, "ঈদের আগে বেতন আর বোনাসটা পেয়ে কী যে উপকার হলো তা বলে বোঝাতে পারব না। এখন নিশ্চিন্তে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে পারব। সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাতে স্বস্তিতে ঈদ কাটাতে পারব, এটাই বড় পাওয়া।"

অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। তাদের পরিশ্রমেই সচল থাকে বন্দরের চাকা। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি বলেন, "উৎসবের এই দিনগুলোতে শ্রমিকদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা সবসময় তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ ও মো. জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামসহ ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। শ্রমিকরা আগাম পাওনা পরিশোধের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের প্রত্যাশা, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে এই ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকবে আজীবন। সময়মতো পাওনা পাওয়ার এই নিশ্চয়তা তাদের কাজের প্রতি আগ্রহকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
ধ্রুব/এস.আই