❒ বেনাপোলে ৬কোটি টাকার পণ্য আমদানিতে জালিয়াতি
বেনাপোল প্রতিনিধি
বেকিং পাউডারের বস্তায় শাড়ি ছবি: ধ্রুব নিউজ
কাগজে-কলমে পণ্যটি ছিল সাধারণ ‘বেকিং পাউডার’, যা দিয়ে বড়জোর রুটি বা কেক ফোলে। কিন্তু আমদানিকারকের চাতুরিতে সেই পাউডার রীতিমত শাড়ি কসমেটিসকে পরিনত হলো। ভারত থেকে আমদানি করা বেকিং পাউডারের ১০০টি প্যাকেজ খোলার পর ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি, বরং ভেতরে থরে থরে সাজানো দামী শাড়ি আর কসমেটিকস। প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের এই বিশাল চালানের জালিয়াতি উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে যৌথ অভিযান চালিয়ে পণ্যসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স ভারত থেকে একটি ট্রাকে করে ১০০ প্যাকেজ ‘বেকিং পাউডার’ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। স্বল্প শুল্কের পণ্য দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। তবে পণ্য খালাসের আগে কায়িক পরীক্ষা বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের সময় সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা উচ্চ শুল্কযুক্ত বিভিন্ন পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বেরিয়ে আসে।
শুল্ক কর্মকর্তাদের দীর্ঘ তল্লাশিতে ওই ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার পিস প্রিমিয়াম মানের শাড়ি, ৬ হাজার পিস থ্রি-পিস, ৩০০ পিস টু-পিস, প্রায় ৩০০ কেজি শিশুদের পোশাক ও ৫৫০টি ওড়না। এছাড়া প্রায় ৭০০ কেজি ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন দামী কসমেটিকস এবং ৬০০ কেজি বিশেষ কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাবে জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যেই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। জব্দকৃত পণ্যগুলো বর্তমানে কাস্টমসের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে কাস্টমস সূত্র।