এম জামান
শহরের মেসার্স তোফায়েল ফিলিং স্টেশন থেকে তোলা ছবি: ধ্রুব নিউজ
দিন যত গড়াচ্ছে যশোরে জ্বালানি তেলের সংকট তত প্রকট আকার ধারণ করছে। রেশনিং পদ্ধতি চালুর পর অল্প হলেও তেল মিলবে—এমন প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু বাস্তবে সে আশা হতাশায় রূপ নিয়েছে। মাত্র ২০০ টাকার তেল কিনতে চালকদের ঘুরতে হচ্ছে পাম্পে পাম্পে। ৫-৬টি পাম্প ঘুরলে হয়তো একটিতে তেল মিলছে, তাও আবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। ভাগ্য বিড়ম্বনায় কারো কারো পাম্প খোঁজার চক্করেই ২০০ টাকার তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ পাম্পে এখন ঝুলছে ‘তেল নেই’ নোটিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত যশোর শহরের মণিহার, পালবাড়ি ও দড়াটানাসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে এক অসহায় দৃশ্য। তেলের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। কোথাও পেট্রোল থাকলে অকটেন নেই, আবার কোথাও অকটেন থাকলে পেট্রোল নেই—এমন লুকোচুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে।
বৈশ্বিক সংকটে গত ৫ মার্চ থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে তেলের মজুত যথেষ্ট আছে। এমনকি বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশ; এখনো সরকার ভর্তুকি দিয়ে তেল সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকেও দেশে জ্বালানি তেল এসেছে। এরপরেও তেলের অস্থিরতা কাটেনি। আজ ছুটির দিনে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের চেয়েও প্রকট হয়ে উঠছে বাজারের অস্থিরতা। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্রিম টাকা দিয়েও মিলছে না তেল। আর সাধারণ মানুষ প্রয়োজনেও গাড়ি চালাতে পারছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
ব্যবসায়ী সাগর ইসলাম বলেন, “আমি ছোট একটা ব্যবসা করি। তেল নিতে পাম্পে এসেছিলাম, কিন্তু দেখি তেল নেই। পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা ঝুলিয়ে রেখেছে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। আমার গাড়িতেও তেল নেই।”
আরেক পথচারী শাহজাহান মিয়া বলেন, “আমি ভোমরার দিকে যাব। কিন্তু কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। আমার গাড়িতেও তেল নেই। কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব বুঝতে পারছি না।”
মেসার্স তোফাজ্জল হোসাইন ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইয়ারুল ইসলাম জানান, “গত তিন দিন ধরে ডিপো থেকে তেল আসছে না। গ্রাহকরা তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আমাদেরও খারাপ লাগছে। সামনে আবার ঈদের বোনাস ও বেতনের বিষয় রয়েছে। তেল বিক্রি বন্ধ থাকলে আমাদেরও ঈদ হবে না।”
প্রান্তিক পেট্রোলিয়ামের ম্যানেজার রিমান বলেন, “অতিরিক্ত মানুষ তেল নেওয়ার কারণেই তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই ২০০ টাকার তেল দিচ্ছি। কিন্তু অনেকেই বারবার এসে তেল নিতে চাইছেন। নিষেধ করলে অনেক সময় খারাপ ব্যবহারও করছেন।” তিনি আরও বলেন, “পাম্প মালিকরা কখনোই তেল মজুত করে সংকট তৈরি করতে চান না। বরং আমরা চাই বেশি বিক্রি হোক, যাতে আমাদের আয় বাড়ে এবং কর্মচারীদের বেতন ঠিকভাবে দিতে পারি।”
মেসার্স মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, ডিপো থেকে কোটাভিত্তিক মাত্র ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন তারা। তবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পাননি। বর্তমানে তাদের পাম্পে শুধু ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “ডিপো থেকে আমাদের জানানো হয়েছে আগামী শুক্র ও শনিবার পে-অর্ডার করে অগ্রিম রাখতে। পরে তারা জানাবে তেল দিতে পারবে কি না। আমরা ইতোমধ্যে পে-অর্ডারের টাকা প্রস্তুত করে রেখেছি।”