নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর: ২ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আল আমিন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগে ইমন ওরফে 'ভাগ্নে ইমন'সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী আল আমিনের স্ত্রী সাবিনা আক্তার বাদি হয়ে যশোর আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—যশোর শহরের শংকরপুর পশু হাসপাতাল এলাকার কাজী খালিদের ছেলে ও বর্তমানে পুলেরহাট কৃষ্ণবাটি এলাকার বাসিন্দা ইমন ওরফে ভাগ্নে ইমন, একই এলাকার কাজী তারেকের ছেলে তানভীর, জাকিরের ছেলে জয়, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আকাশ, রানা হোসেনের ছেলে আশিক এবং একই এলাকার অভি।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, আসামিরা বাদি সাবিনা আক্তারের স্বামী আল আমিনের প্রতিবেশী। তারা দীর্ঘদিন ধরে আল আমিনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গত ১৭ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আল আমিনের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। চাঁদা না পেয়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এতে আল আমিনের স্ত্রী সাবিনা আক্তার প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে আসামিরা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বাড়ির সামনে রাখা একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল (যশোর-ল-১৩-৬৯২০) লুট করে নিয়ে যায়। বাদী সাবিনা আক্তার জানান, ঘটনার পর আসামিদের কাছ থেকে লুট হওয়া টাকা ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে এবং আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার জন্য তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।