নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক প্লাটিনাম বিক্রেতা শরিফুল ছবি:
১৭ কোটি টাকার দুর্লভ 'প্লাটিনাম' হাতে পাওয়ার লোভে ৬৭ লাখ টাকা ঢাললেন ব্যবসায়ী, অবশেষে কসটেপে মোড়ানো বাক্স খুলে মিলল কেবলই ইটের টুকরো! লোভের ফাঁদে পড়ে সব হারিয়ে এখন মাথায় হাত ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
রোববার রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শরিফুল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। আজ সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের সিটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট সোহরাব হোসেন পিন্টুর কর্মচারী মামুনের সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল শরিফুলের। গত ৭ আগস্ট শরিফুল মামুনকে জানান, তাদের কাছে ১৭ কোটি টাকা মূল্যের দুর্লভ ধাতব পদার্থ 'প্লাটিনাম' রয়েছে এবং এটি বিক্রির জন্য একজন বিশ্বস্ত ক্রেতা প্রয়োজন।
মামুন বিষয়টি তার নিয়োগকর্তা সোহরাবকে জানালে ১০ আগস্ট শরিফুলসহ প্রতারক চক্রের কয়েকজন সদস্য সোহরাবের বাড়িতে যান। সেখানে চক্রটি এক ভুয়া ক্রেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিয়ে জানায়, ধাতব পদার্থটি সংগ্রহ করতে ৭২ লাখ টাকা লাগবে। পরে ১৭ কোটি টাকায় এটি বিক্রি করে লাভ ভাগাভাগির প্রলোভন দেখালে সোহরাব ও মামুন ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন শরিফুলের হাতে।
পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট সাতক্ষীরায় গিয়ে শরিফুলের কাছ থেকে কথিত প্লাটিনাম ভর্তি একটি কসটেপে মোড়ানো প্লাস্টিকের বক্স গ্রহণ করেন সোহরাব। শরিফুল তাকে এটি বাড়িতে গিয়ে খোলার পরামর্শ দেন। তবে বাড়ি ফিরে বক্সটি খুলে সোহরাব ভেতরে শুধু একটি ইটের টুকরা দেখতে পান।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী সোহরাব হোসেন যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।