Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ছেলের লাশ ঘরে, মা-মেয়ের সিঁড়িতে, তৃতীয় তলার ছাদে বাবার লাশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ আগস্ট,২০২৬, ১১:০৪ এ এম
ছেলের লাশ ঘরে, মা-মেয়ের সিঁড়িতে, তৃতীয় তলার ছাদে বাবার লাশ

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের গলিত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ডাকাতি নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪)। আগামী কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন এবং আয়ুশ জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি ডাকাতি? শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে মাছুয়াপাড়ার নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মরদেহগুলোর অবস্থান ও সুরতহাল প্রতিবেদন দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটেছে। দ্বিতীয় তলার শোবার ঘরে খাটের পাশে গামছা বা কাপড় পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায় শিশু আয়ুশের লাশ। তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায় মা প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামীর লাশ। তিনতলার ছাদে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পড়ে ছিল গৃহকর্তা গণপতি চক্রবর্তীর নিথর দেহ।

রংপুর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, নিহত চারজনেরই মুখ কিছুটা ঝলসানো ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে হত্যার পূর্বে তাঁদের মুখে কোনো রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ঘরে চাবির গোছা দিয়ে আলমারি ও ড্রয়ার খোলা হলেও কোনো আলমারি ভাঙা হয়নি। তবে ঘরের টিভি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটি নিছক ডাকাতি নাকি শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।

স্বজনদের আহাজারি ও যেভাবে ঘটনা জানাজানি হয় নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে প্রীতিলতা ও আগামীর সাথে তাঁর শেষ কথা হয়। শুক্রবার সারাদিন ও শনিবার বিকেল থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও বোন ও ভগ্নিপতির মুঠোফোন বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হলে শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসা থেকে তিনি বোনদের বাড়িতে যান।

বাড়ির মূল গেটে তালা ঝুলতে দেখে এবং বারবার বেল বাজিয়ে সাড়া না পেয়ে পাশের ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে আলো ফেলেন পূজা। ভেতরে জিনিসপত্র তছনছ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে ওই ভবনে প্রবেশ করে ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে।

আবেগাপ্লুত হয়ে পূজা চক্রবর্তী বলেন, "কে মারল আমার দিদি, দাদা ও আদরের দুই সন্তানকে? তাদের তো কোনো অপরাধ ছিল না, কারও সাথে শত্রুতাও ছিল না। নিজের বাড়িতেও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে আমরা কোথায় বাস করছি?"

তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি স্থানীয়রা জানান, গণপতি চক্রবর্তী একজন শান্তশিষ্ট মানুষ ছিলেন। ২০১০ সালে জমি কিনে তিন বছর আগে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন তিনি। অবসর জীবনে হোমিও চিকিৎসা দিতেন। এমন একজন নিঃশ্বাপ মানুষের পুরো পরিবারকে কেন হত্যা করা হলো, তা ভেবে পাচ্ছে না প্রতিবেশী বা স্বজনরা।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে কাজ করছে। খুনিদের শনাক্ত ও আটক করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)