❒ মণিরামপুরের ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক হুসাইন ছবি: ধ্রুব নিউজ
‘পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইনামুলের গতি রোধ করে প্রথমে আমিই তাকে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে জখম করি। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।’ যশোরের মণিরামপুরে রাজমিস্ত্রি ইনামুল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতকে এভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে আটক আসামি হুসাইন। নাতনিকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ এবং জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ থেকে ১২ জন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামি হুসাইনের এই জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আটক জবানবন্দিদানকারী হুসাইন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের এনামুল সরদারের ছেলে। আর নিহত রাজমিস্ত্রি ইনামুল হোসেন একই গ্রামের মৃত রহিম সর্দারের ছেলে।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, নিহত ইনামুল হোসেনের নাতনি সুমাইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফারাসাতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। বিষয়টি জানতে পেরে ইমামুল প্রতিবাদ করায় রাব্বি তাকে খুন-জখমের হুমকি দেয়। এর পাশাপাশি নিহত ইমামুলের সাথে হুসাইনদের জমিজমা নিয়েও বিরোধ চলছিল।
সোমবার রাতে ইনামুল হোসেন বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর তিন রাস্তার বাঁশতলা মোড়ে আব্দুল মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে হামলাকারীরা তার গতিরোধ করে হুসাইনের নেতৃত্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত ইনামুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী রেশমা বেগম বাদী হয়ে রাব্বি, হুসাইনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনার দিন সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে হুসাইনকে আটক করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের ও সহযোগীদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এই জবানবন্দি দেয়।