নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদ এবং যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হামিদুর রহমান রাজীব। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে পুলিশের নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রমে বাধা ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) পৃথক নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জেলা শাখা এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
শোকজপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন— যশোর নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদ এবং যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হামিদুর রহমান রাজীব।
যশোর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় যশোর শহরের পশ্চিম বারান্দীপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও সংগঠনের নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শামীম আখতার স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হামিদুর রহমান রাজীবের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজিদুর রহমান সাগরের কাছে লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুন্নবী একজন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হামিদুর রহমান রাজীবকে তল্লাশির জন্য থামানো হলে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে এসে ওই দুই নেতার পক্ষে অবস্থান নেন এবং পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে তারা পুলিশের হেফাজত থেকে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুমন আহমেদ ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হামিদুর রহমান রাজীবকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতাদের নজরে এলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।