ধ্রুব ডেস্ক
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ‘প্রক্সি পরীক্ষার্থী’ দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোসহ জালিয়াতির অপরাধ তাদের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে একজন ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান। অপর দুজন মো. নুরন্নবী ও মো. সোহেল। তারা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২-এ বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। আর জুলফিকার আলী মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। গত বৃহস্পতিবার সিআইডির নোয়াখালী জেলা ইউনিট তাদের গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কর অঞ্চল-নোয়াখালীতে গ্রেড-১৩ থেকে গ্রেড-২০ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে ১১২ প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে ২১ জুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যোগ দেওয়ার সময় প্রার্থীদের আবেদনপত্র, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ের এক পর্যায়ে কামাল উদ্দিন (অফিস সহায়ক পদে মনোনীত) এবং মো. নাসফুরুল্লাহর (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত) হাতের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার সময় পূরণ করা চেকলিস্টের হাতের লেখার অসংগতি ধরা পড়ে। পরে তাদের আবারও একই লেখা লিখতে দিলে হাতের লেখায় স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে কামাল উদ্দিন স্বীকার করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি নিজে অংশ নেননি। তার বদলে অপর এক ব্যক্তি প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষা দেন। একইভাবে নাসফুরুল্লাহও স্বীকার করেন, লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় তার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময় ২২ জুন আবারও যাচাইকালে মো. সুজনের হাতের লেখাতেও অসংগতি ধরা পড়ে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাশেদ উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদে সুজনও প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ ঘটনায় তিনজনকে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় সোপর্দ এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ ঘটনা জানতে পেরে সিআইডি নোয়াখালী জেলা ইউনিট ছায়াতদন্ত শুরু করে। মামলাটি সিআইডির তপশিলভুক্ত হওয়ায় পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি।
সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করতেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযানে নুরন্নবী ও সোহেলকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে এবং জুলফিকার আলীকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধ্রুব/টিএম