কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
নদী দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক, উচ্ছেদ করা হবে: ফাহিমা নাসরিন মুন্নী এমপি
অপরাধী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল। শনিবার (১ আগস্ট) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অফিসারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
একই অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “ভূমিদস্যু ও নদী দখলকারী যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, তাকে উচ্ছেদ করে নদী দখলমুক্ত করতে হবে।”
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও মহেশপুর অফিসার্স ফোরামের সভাপতি মোঃ আবুল বাসার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তারুজ্জামান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াজেদুর রহমান, ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও ফোরামের কোষাধ্যক্ষ খালিদ সাইফুল্লাহ সজিব, এবং ফোরামের সদস্য তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল আজিজ।
এছাড়া মহেশপুরের প্রবীণ শিক্ষক এ টি এম খাইরুল আনাম, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সম্পাদক প্রকৌশলী মোমিনুল ইসলাম মোমিন, জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. নান্নু মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ দবির উদ্দিন বিশ্বাস এবং মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআরডিবি কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম।
অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, যেকোনো মূল্যে মহেশপুর সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে; মানব পাচার, গরু পাচার, সোনা চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে মানব পাচারের যেসব আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি মহেশপুরের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিন মুন্নী বলেন, মহেশপুর একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখান দিয়ে প্রবাহিত পাঁচ-ছয়টি নদী আজ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে গিয়ে খালে পরিণত হয়েছে, অনেকে নদীতে পুকুরও খনন করেছে। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের উচ্ছেদ করে নদীগুলো মুক্ত করতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, মহেশপুরের উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করা হবে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার, সে কারণে প্রধান উপদেষ্টা জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে অতিথিরা উপজেলা চত্বরে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মতবিনিময় সভার পূর্বে তাঁরা ভালাইপুর গ্রামে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সহিদুল ইসলাম মাস্টারের কবর জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।