নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশ যাওয়ার নামে প্রতারণার খবর অহরহই মেলে। তবে এবার ঘটেছে ঠিক উল্টো! স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে পালানোর অপরাধে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে উল্টো প্রতারণার মামলা ঠুকে দিয়েছে এজেন্সি।
বৃহস্পতিবার যশোর শহরের মুজিব সড়কে অবস্থিত ‘উই কেয়ার এডুকেশন’-এর অপারেশন ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি তদন্ত করে কোতোয়ালি থানার ওসিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ঝিকরগাছা উপজেলার নন্দী ডুমুরিয়া গ্রামের তপু রায়হান (২৭) ও তার মা শাহিনুর বেগম। বিষযটি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাহমীদ আকাশ।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সাংসিন বিশ্ববিদ্যালয়’-এ উচ্চশিক্ষার জন্য তপু রায়হানকে ভর্তি করিয়ে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সংস্থাটি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাকে বাংলাদেশে থেকে পাঠানো হয়। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি লিখিত অঙ্গীকার করেছিলেন যে, কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিয়মিত ক্লাস করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শর্ত ভাঙবেন না এবং অন্য কোথাও কাজে যোগ দেবেন না।
তবে সাড়ে তিন মাস পড়াশোনার পর গত ১৭ জুন হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে অন্যত্র কাজে যোগ দেন তপু রায়হান। এতে চুক্তি ভঙ্গ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে উই কেয়ার এডুকেশনের দীর্ঘদিনের সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিষয়টি জানার পর উই কেয়ার এডুকেশন কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী তপুর মা শাহিনুর বেগমকে অফিসে ডেকে পাঠান। গত ২৪ জুলাই তিনি এসে লিখিত অঙ্গীকার করেন যে, তার ছেলেকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত ক্লাসে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সেই কথা রাখা হয়নি।
এদিকে এই ঘটনার জেরে সাংসিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উই কেয়ার এডুকেশনের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভর্তির সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন ৩৫ জন শিক্ষার্থীর ফাইল বাতিল করা হয়েছে এবং আরও ১১ জন শিক্ষার্থীর ফাইল বাতিলের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে এজেন্সিটির প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা আশ্বাস ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে শর্ত ভেঙে তারা এজেন্সির সুনাম ও ব্যবাসায়িক স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।