নিজস্ব প্রতিবেদক
হাইব্রিড বীজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার যশোর শহরের ধষ্টিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং আলী সিড ফার্ম ও আলী কোল্ড স্টোরেজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ আলী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলো—ঢাকা জেলার সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা ও এ.এন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইয়াসমিন আনোয়ার এবং তার দুই সহযোগী ছৈোয়ার ও জিয়াউদ্দীন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএসএইড এগ্রিকালচার প্রোগ্রাম প্রজেক্টের চাকরির সুবাদে ঢাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমানের মাধ্যমে আসামিদের সঙ্গে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলীর পরিচয় হয়। আসামিরা নিজেদের বিদেশ থেকে উন্নতমানের হাইব্রিড ধান ও সবজির বীজ আমদানিকারক দাবি করে বাদীকে ব্যবসায়িকভাবে বীজ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। গত ৫ জুলাই ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা জানায়, এক কোটি টাকা অগ্রিম প্রদান করলে একই দিনে বীজ সরবরাহ করা হবে।
ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলীর আস্থা অর্জনের উদ্দেশ্যে আসামিরা তার প্রতিষ্ঠানের নামে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার নিরাপত্তা (সিকিউরিটি) হিসেবে দেয় এবং জানায়, বীজ সরবরাহ করা না হলে ওই পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়া যাবে। পে-অর্ডারের কপি যাচাই করে তা সঠিক মনে হওয়ায় তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের যশোর শাখায় থাকা তার দুটি ব্যবসায়িক হিসাব থেকে আরটিজিএসের (RTGS) মাধ্যমে আসামিদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি টাকা পাঠান।
টাকা পাঠানোর পরও বীজ সরবরাহ না করায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলী প্রাইম ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তাকে দেওয়া পে-অর্ডারটি জাল বা ক্লোন করা। বিষয়টি জানার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট হিসাবের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। এরপর গত ৬ জুলাই ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ আলী যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করেন। সর্বশেষ, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।