ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই মুহূর্ত, যখন শরলথ ছিলেন দুইজন ডিফেন্ডারের মার্কিংএ, পাশেই পাস রিসিভের অপেক্ষায় ছিলেন হালান্ড ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে বড় মঞ্চে ফিরেই নিজেদের জাত চিনিয়েছিল নরওয়ে। মাঠের পারফরম্যান্সে ভাইকিংদের এবারের ইউরো বা বিশ্বকাপ যাত্রাটা ছিল দারুণ সম্ভাবনাময়। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে এসে এক বুক হতাশা নিয়ে থামতে হলো তাদের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি যতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল, ঠিক ততটাই আক্ষেপের গল্প হয়ে রইল নরওয়ের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার শরলথের একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়া সেই মুহূর্তটিই এখন ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
ম্যাচ চলাকালীন একটি কাউন্টার অ্যাটাকে যখন নরওয়ে আক্রমণে ওঠে, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে সৃষ্টি হয়েছিল ওয়ান-ভার্সেস-টু (১vs২) সিচুয়েশন। বল পায়ে ছিলেন শরলোথ, আর গোল করার মতো এক দুর্দান্ত ও সুবিধাজনক পজিশনে দাঁড়িয়ে বলের অপেক্ষায় ছিলেন আর্লিং হালান্ড। সেখানে একটু দ্রুত পাস বাড়িয়ে দিলেই হয়তো লিড নিতে পারত নরওয়ে। কিন্তু সঠিক সময়ে বল প্রসিড না করে হোল্ড করায় হাতছাড়া হয়ে যায় নিশ্চিত গোল পাওয়ার সেই সুবর্ণ সুযোগ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় নরওয়েকে।
ম্যাচ শেষের পর থেকেই শরলথের এই সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই সমালোচনা কেবল ফুটবলীয় আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; রূপ নিয়েছে চরম নৃশংসতায়। ম্যাচ হারের খলনায়ক বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফোনে শরলথকে সরাসরি মৃত্যুর হুমকি (ডেথ থ্রেট) দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভীতিকর ঘটনা ঘটছে যা ক্রীড়াজগতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নিশ্চিতভাবেই মাঠের ওই মুহূর্তে শরলথের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন। হিট অব দ্য মোমেন্টে তার মাথায় কী চলছিল, সেটি পরবর্তীতে ব্যাখ্যাও করেছেন এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। কিন্তু মাঠের একটি ভুল সিদ্ধান্তের জন্য একজন ফুটবলারকে এভাবে মৃত্যুর হুমকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভক্তদের এমন উগ্র আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৪ সালের কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকে। মাঠের ভুল আর আবেগের অতিশয্য যেন আর কোনো ট্র্যাজেডির জন্ম না দেয়, ক্রীড়াঙ্গনে এখন এটাই সবার কাম্য।