Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

❒ এইচএসসির তিন বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হতে পারে / এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই,২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চমাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নিজের একটি বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একটি বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে বিলের ওপর আলোচনার সময়ও তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষার দিন অনেক এলাকায় বৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ এসেছে, অনেক পরীক্ষার্থী ভিজে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন এবং অনেকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সেই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়া হবে। তখন পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার পরীক্ষাও আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।’

নিজের একটি মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। সে ব্যাপারে বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকে আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার আন্দোলনে নামে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’–এমন স্লোগান শোনা যায় শিক্ষার্থীদের মুখে।

ফেসবুকে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি পেজ খুলে সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে প্রচার চালানো হয় সারাদিন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। পরে সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি চত্বরের সামনে যান শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকা বোর্ডের সামনে যান। ঢাকা বোর্ডে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে ফিরে আবারও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা সংসদ ভবনের মূল ফটকে পৌঁছে অবস্থান নেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা আড়ংয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সেখানেও ধাওয়া দেয়।

আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবিগুলো হলো— বৈরী আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

এদিকে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট। আজ মঙ্গলবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়, গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি ও অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশ্নপত্রে এমন ভুল থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপের মুখে পড়ে।এতে আরও বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও প্রশ্নপত্র পরিশোধক হিসেবে এ ধরনের ত্রুটি থেকে যাওয়া চরম দায়িত্বহীনতা এবং পেশাগত কর্তব্যে অবহেলার শামিল। একইসঙ্গে এ ঘটনায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

প্রশ্নপত্র পরিশোধনে এমন গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতির জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। 
যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৩ জুলাই এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্রের দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে অসঙ্গতি ধরা পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরদিনই সংশ্লিষ্ট চার পরিশোধককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করল সিলেট শিক্ষা বোর্ড।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)