কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বিক্রির হিসেবে ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের ঘাটতি পাওয়ায় এক সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শামীম হোসাইনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এই অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সার ব্যবসায়ীর গুদামে রক্ষিত মজুত ও সরকারি হিসাব রেজিস্টার যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে গুদামের নথিপত্রের সাথে বাস্তব চালানের অমিল পাওয়া যায় এবং দৃশ্যমান ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের ঘাটতি ধরা পড়ে। অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনে ওই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভরা মৌসুমে বাজারে ইউরিয়া সারের চাহিদা বাড়লেই একশ্রেণীর অসাধু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ী সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। গুদামে হিসাবের গরমিল দেখানো, অতিরিক্ত দামে বিক্রি কিংবা গোপনে সার সরিয়ে ফেলার মতো কারসাজিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকেরা। সময়মতো সঠিক দামে সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চাষের খরচ বহুলাংশে বেড়ে যায়।
কৃষি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করছে, শুধু সাময়িক অর্থদণ্ড দিয়েই প্রশাসনের দায় শেষ করা উচিত নয়। সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য নিয়মিত তদারকি ও প্রকাশ্য স্থানে টানিয়ে রাখা জরুরি। কোথায় কত সার বরাদ্দ এলো, কতটুকু বিক্রি হলো আর কতটুকু মজুত রয়েছে—এসব তথ্য স্বচ্ছ রাখলে এ ধরনের কারসাজি বন্ধ করা সম্ভব।
একত্রে ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারের ঘাটতি থাকা সাধারণ কোনো ভুল নয় উল্লেখ করে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, এই সারের পেছনে কোনো গোপন মজুত বা কালোবাজারির সম্পর্ক আছে কি না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের জিম্মি করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন কৃষকসমাজ।