বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে ১৬ মাস জেলখাটার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন নয় বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী, দুজন শিশু ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের শূন্যরেখায় ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিজিবি, বিএসএফ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা ভ্রমণ পরোয়ানা (ট্রাভেল পারমিট) এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসরকারি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ভালো চাকরির আশায় দালালের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে আটক হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। ১৬ মাসের সাজাভোগ শেষে তাঁদের কলকাতার দমদম শেল্টার হোমে রাখা হয়েছিল।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইনগত ব্যবস্থার জন্য ফেরত আসা নাগরিকদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ফেরত আসা ৯ জনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মানবাধিকার ও মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ এবং ‘রাইটস যশোর’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ৫ জন এবং রাইটস যশোর ৪ জনকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে পরিবারের কাছে নিরাপদ হস্তান্তরের কাজ করছে।
দেশে ফেরা ব্যক্তিরা হলেন— নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মুক্তা খানম, রুকসানা ও জাহানারা বেগম, নড়াগাতী থানার খাদিজা ও আয়েশা, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার তাপস মন্ডল, রাজবাড়ী সদরের আশিক মোল্লা, খুলনার কয়রা উপজেলার তন্ময় সরকার এবং পাইকগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণ বাছার।