ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
আর্লিং হালান্ডের দিনটা শুরু হয়েছিল চরম হতাশা দিয়ে। একের পর এক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচটাকেই কঠিন সমীকরণে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই হালান্ডই হয়ে উঠলেন দলের ত্রাতা। বাতাসে ভেসে এক দৃষ্টিনন্দন হেডারে পুরো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেন তিনি, আর সেই সাথে স্পর্শ করলেন ক্যারিয়ারের এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক।
শনিবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের লড়াইয়ে কভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের জয়ের দিনে ক্লাব ক্যারিয়ারে ৩০০তম গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা জো’ জানাচ্ছে, এই উচ্চতায় পৌঁছাতে হলান্ডের লেগেছে মাত্র ৩৬৮টি ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে (৩৯৮ ম্যাচ) ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে (৪৯৯ ম্যাচ)। তবে সর্বকালের দ্রুততম হিসেবে এই রেকর্ডটি এখনো লিওনেল মেসির দখলেই রয়ে গেছে; ২০১৩ সালে ক্লাব ক্যারিয়ারের ৩০০তম গোলটি করতে মেসির লেগেছিল ৩৬৫টি ম্যাচ। অল্পের জন্য আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ছুতে না পারলেও এমবাপ্পে-রোনালদোকে ছাপিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন এই স্ট্রাইকার।
মাইলফলক ছোঁয়ার পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একটি অনন্য রেকর্ডও নিজের নামে করে নিয়েছেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে সিটির জার্সিতে হেডে এটি ছিল তার ২০তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ক্লাবের কিংবদন্তি সার্জিও আগুয়েরোর (১৯টি) এতদিন ধরে ধরে রাখা রেকর্ডটি।
নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারের ৩০০ গোলের মধ্যে সর্বাধিক ১৬৫টি গোল এসেছে ম্যান সিটির জার্সিতে। এছাড়া বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৮৬টি, রেড বুল সালজবার্গের হয়ে ২৯টি এবং মোলদে এফকের হয়ে ২০টি গোল করেছেন তিনি। একই সাথে নরওয়ে জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ঝুলিতে রয়েছে আরও ৬২টি গোল।
যদিও ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দলের জয়—কোনোটাই পুরোপুরি তৃপ্ত করতে পারেনি এই সিটির তারকাকে। সুযোগ নষ্টের বিষাদ ম্যাচ শেষে ঝরে পড়েছে তার নিজের কন্ঠেই, “ম্যাচটি আগেই একপেশে করে নেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি সুযোগ আমি পেয়েছিলাম, যা কাজে লাগাতে পারিনি। আমার ব্যর্থতার কারণেই দল শেষ পর্যন্ত চাপে ছিল এবং কভেন্ট্রি ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগের মতো জায়গায় এমন সুযোগ নষ্ট করলে যেকোনো ম্যাচই কঠিন হয়ে ওঠে।”