ক্রীড়া ডেস্ক
দুটি গোল করে ইন্টার মিলানের প্রত্যাবর্তনে দারুন ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লাউটারো মার্টিনেজ ছবি: সংগৃহীত
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে পরাজয়ের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল সান সিরোয়। সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক মহাকাব্যিক জয় ছিনিয়ে আনল ইন্টার মিলান। শনিবার রাতে ঘরের মাঠে নাপোলিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে রোমাঞ্চকর এক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস লিখল সিরি আ-র ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। দলের এই নাটকীয় জয়ে জোড়া গোল করে মূল নায়কের ভূমিকায় ছিলেন অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল পুরো গোলশূন্য। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খেলা নাটকীয় মোড় নেয়। ৫০তম মিনিটে মাত্তেও পলিতানোর প্রথম শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে নিখুঁত শটে নাপোলিকে এগিয়ে দেন তিনি। এর ঠিক তিন মিনিট পর রাসমুস হইলুন্দের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ইন্টার। টানা দুই লিগ ম্যাচে এটি ছিল এই ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। ৫৬তম মিনিটে ফেদেরিকো দিমার্কোর দারুণ এক পুল-ব্যাক থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-১ করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার; যদিও মার্কাস থুরামের একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফেরত আসলে হতাশা বাড়ে সমর্থকদের। তবে দমে যাননি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ডান দিকের কোণায় নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠিয়ে ইন্টারকে ২-২ সমতায় ফেরান থুরাম।
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা বাকি ছিল তখনও। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মিনিটে নাপোলির রক্ষণভাগ চুরমার করে কাছ থেকে চমৎকার গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লাউতারো। এই ব্যবধান ধরে রেখেই অবিশ্বাস্য জয়ের উল্লাসে মাতে ইন্টার মিলান।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল ইন্টার মিলান। পাশাপাশি সান সিরোয় ঘরের মাঠে তাদের দীর্ঘদিনের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি আরও এক ধাপ সমৃদ্ধ হলো; যেখানে তারা সবশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে হেরেছিল। অন্যদিকে, গত লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাপোলির জন্য সময়টা বেশ কঠিন যাচ্ছে। আগের সপ্তাহে কোমোর কাছে হারের পর এবার ইন্তারের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল তারা।
বর্তমানে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মিলান। অন্যদিকে সমান ম্যাচে একটি জয়ে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশম স্থানে নেমে গেছে নাপোলি।