নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে ভবদহ এলাকার বাসিন্দারা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভবদহ অঞ্চলের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়ন এবং পানিবন্দী মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার দাবিতে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক-জনতা।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) ‘ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে এই অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন আন্দোলনকারীরা।
কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে সংহতি জানায় 'কৃষক মুক্তি সংগ্রাম, নড়াইল-যশোর শাখা কমিটি'। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক প্রতিনিধিদের সংগঠিত করে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ভবদহের জলাবদ্ধতা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের ভুল পানি ব্যবস্থাপনা, নদী-পলি ব্যবস্থাপনার সংকট এবং স্থানীয় কৃষক-জনতার মতামতকে উপেক্ষা করার ফল। বর্তমানে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুরের শত শত গ্রামের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে আছে। ভবদহের পানি নিষ্কাশন কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার।
সংহতি জানিয়ে কৃষক মুক্তি সংগ্রামের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পের নামে বারবার টালবাহানা করা হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে কৃষকের জমি, ফসল ও বসতভিটা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কর্মসূচি থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
· জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম (TRM) বাস্তবায়ন ও নদী খনন করা।
· জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার ও প্রশস্তকরণ।
· খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত জমে থাকা পলি দ্রুত অপসারণ করা।
· নদী ও খালে থাকা প্রয়োজনীয় আড়বাঁধ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা।
· পানিবন্দী মানুষের জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
কর্মসূচিতে অভয়নগরের কালিশাকুল, মশিয়াঘাটী, বালিধা; মনিরামপুরের লখাইডাঙ্গা, সুজাতপুর, কপালিয়া এবং কেশবপুরের খুকশিয়া ও ডুমুরখালি সহ ভবদহ বিলসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের বিপুল সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানান, ভবদহের স্থায়ী সমাধান ও পানি নিষ্কাশন না হওয়া পর্যন্ত এই গণআন্দোলন অব্যাহত থাকবে।