নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সহসভাপতি রুহুল আমিনকে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ রবিবার ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে যশোর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি গ্রহণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলো—চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত জোহর আলীর ছেলে জসিম উদ্দীন এবং একই গ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে রবিউল ইসলাম।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
গত ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে চাঁদপাড়া বেলেখাল মোড়ে একটি দোকানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলছিলেন বিএনপি নেতা রুহুল আমিন। এ সময় আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জসিম তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে রুহুল আমিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি অলৌকিকভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, আসামিরা তাৎক্ষণিক প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে দুটি বোমা বের করে তার দিকে নিক্ষেপ করে। বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হলে বোমার স্প্লিন্টারে রুহুল আমিন গুরুত্বর আহত হন। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি গোপনে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসামিরা কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সম্প্রতি তারা পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থানকালে আসামি জসিম ও রবিউল অজ্ঞাত দুই সহযোগীকে নিয়ে এসে রুহুল আমিনকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বাদী রুহুল আমিন জানান, প্রথম ঘটনার সময় রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে আসায় প্রথমে থানায় মামলা করতে গেলেও কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।