ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি ব্যাটে রান খরা চলছিল। ফর্মহীনতার কারণে শুনতে হচ্ছিল সমালোচনা। তবে সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে এবার ব্যাট হাতে বাইশ গজে আক্ষরিক অর্থেই ঝড় তুললেন ভারতীয় বাঁহাতি ব্যাটার অভিষেক শর্মা। পাঞ্জাব আন্তঃজেলা সিনিয়র টুর্নামেন্টে অমৃতসরের হয়ে খেলতে নেমে তিনি খেললেন ৯১ বলে ২৩৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। ওয়ানডে ফরম্যাটের এই ম্যাচে তার এমন অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের সুবাদেই বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে তার দল।
রোববার অমৃতসরের গান্ধী গ্রাউন্ডে তরন তারণ দলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল অমৃতসর। এদিন শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক। বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র ৯১ বলের মোকাবিলায় তিনি উপহার দেন ২৩৩ রানের এক 'সুপার সাইক্লোন' ইনিংস। চোখ ধাঁধানো এই ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংসে ছিল ১৫টি দৃষ্টিনন্দন চার এবং ২৫টি বিশাল ছক্কার মার। ২৫৬.০৪ স্ট্রাইক রেটে খেলা তার এই মারকাটারি ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৩৩ রানের এভারেস্টসম পাহাড় গড়ে অমৃতসর। ইতিমধ্যেই তার এই তাণ্ডবের ভিডিও এবং স্কোরকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নেটিজেনরা তার এই বিধ্বংসী প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিচ্ছেন দারুণ এক 'স্টেটমেন্ট নক' হিসেবে।
এই ইনিংসটি অভিষেকের ক্যারিয়ারের জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক, তা তার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বছরের শুরুতে আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকলেও বর্তমানে তিনি নেমে গেছেন তিন নম্বরে। সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১১ রান (গড় ৩.৬৬)। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে ২৬.২ গড়ে ১৩১ এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ২৪.৫ গড়ে মাত্র ৪৯ রান করেন তিনি। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারা এই তরুণের শেষ দশটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি রয়েছে কেবল একটি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অফ-স্পিনারদের বিপক্ষে তার দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে। বারবার স্পিনের ফাঁদে পড়ে উইকেট বিলিয়ে এসেছেন তিনি। পরবর্তীতে বিপক্ষ দলের অধিনায়করাও তার এই দুর্বল জায়গাতে দারুণভাবে আঘাত হেনেছেন। পরিসংখ্যানও সাক্ষ্য দিচ্ছে সেই ধারাবাহিক পতনের। বিশ্বকাপের আগে যেখানে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৩৭.০৫ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৯৫, সেখানে বিশ্বকাপের পর তার গড় নেমে দাঁড়ায় ১৯.৪-এ এবং স্ট্রাইক রেট কমে হয় ১৬৫-এর আশেপাশে।
ঠিক এমন এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঘরোয়া লিগে খেলা ২৩৩ রানের এই দানবীয় ইনিংসটি অভিষেকের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরায় ফিরিয়ে আনতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।