নিজস্ব প্রতিবেদক
আগুন নেভানোর কাজ করছে ফায়ার কর্মী ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের বড় বাজার ফেন্সি মার্কেটে মাত্র ১৪ মাসের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কাকতালীয়ভাবে দুটি ঘটনাতেই সুতার দোকানসহ তিনটি করে দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। বারবার একই স্থানে এবং একই ধরনের দোকানে আগুনের এই পুনরাবৃত্তিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার (৫ জুলাই ২০২৬) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফেন্সি মার্কেটের একটি কসমেটিকসের দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত পাশের দুটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কসমেটিকস ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, সিটি গোল্ডের মালিক পারভেজ শেখ এবং রাশেদুল ইসলামের সুতা-বর্ষির দোকান ও ভেতরে থাকা মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক ধারণা, আজকের এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ জানান, বর্তমানে পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করতে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর মাত্র ১৪ মাস আগে গত বছরের ৬ মে (২০২৫) মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে একই ফেন্সি মার্কেটে আরেকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় পাশের একটি দোকানের ওয়েল্ডিংয়ের কাজের ফুলকি থেকে সানোয়ার হোসেনের ‘শফি এন্ড সন্স’ নামের সুতার দোকানে আগুন লাগে। ওই ঘটনায়ও সুতার দোকান ও পাশের যশোর ফিস হুক সেন্টারসহ তিনটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ব্যবসায়ীরা ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছিলেন।
১৪ মাসের ব্যবধানে একই ফেন্সি মার্কেটে এবং সুতার দোকানে আগুনের এই পুনরাবৃত্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘিঞ্জি পরিবেশ, অসতর্কতা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটির কারণেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ ও পানির উৎস না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।