Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

‘সমঝোতা করলে আরামে থাকা যেত, কিন্তু আমি নীতিতে অটল’: আসিফ মাহমুদের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ৮ মার্চ,২০২৬, ০৫:২৭ এ এম
‘সমঝোতা করলে আরামে থাকা যেত, কিন্তু আমি নীতিতে অটল’: আসিফ মাহমুদের বিস্ফোরক স্ট্যাটাস

ছবি: ফেসবুক থেকে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রভাবশালী মহলের সাথে সমঝোতা না করা এবং নিজের নীতিতে অটল থাকাই তার ও তার চারপাশের মানুষের জন্য এক ধরণের চ্যালেঞ্জ বা ‘বিপত্তি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, যখন কোনো ব্যক্তিকে বৈধ উপায়ে দমন করা যায় না, তখন তার বিরুদ্ধে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও পরিকল্পিত ‘ন্যারেটিভ’ নির্মাণের পথ বেছে নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেন।

মিডিয়া ট্রায়াল ও চরিত্রহননের রাজনীতি

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ১১ মাসের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর কোনো প্রমাণ না পেয়ে মোয়াজ্জেমকে নিষ্কৃতি দিয়েছে দুদক। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে হাজার হাজার নিউজ ও ন্যারেটিভ ছড়িয়ে তার এবং তার পরিবারের জীবনকে বিষিয়ে তোলা হয়েছিল। তিনি একে ‘গোয়েবলসের সূত্রের’ সাথে তুলনা করে বলেন, মিথ্যাকে বারবার প্রচার করে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয় যাতে কারো ওপর নিপীড়ন চালানো এক ধরণের সামাজিক বৈধতা পায়।

তিনি আরও বলেন, "এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর জেলবন্দি করে রাখা হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থান না হলে হয়তো তাকে আমরা হারাতাম।"

আসিফ মাহমুদ তার স্ট্যাটাসে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি আপস করলে হয়তো আজ তাকে ‘ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’ বা চরিত্রহননের শিকার হতে হতো না। তিনি দাবি করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিতর্কিত শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি, শেখ হাসিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত সাকিব আল হাসানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে দেশে না আনা, শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি প্রদান, বিসিবিতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অবৈধ কমিটিকে ঠাঁই না দেওয়া, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান এবং ফেলানী সড়কের নামকরণ ও ক্ষমতার লোভের কাছে মাথা নত না করার মতো সিদ্ধান্তগুলোতে অনড় ছিলেন বলেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে।

সমঝোতা বনাম নৈতিকতা

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী ‘প্লেয়ার’ বা কুশীলবদের সাথে সমঝোতা করলে খুব আরামে থাকা যায়। এমনকি কোনো অপকর্ম করলেও তারাই সেটা ধামাচাপা দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষ এসেও খারাপ হয়ে যায় ঠিক এই কারণে। শক্তিধরদের সাথে সমঝোতা না করে, তাদের এজেন্ডায় পরিচালিত না হয়ে এখানে বেঁচে থাকাও কঠিন।"

তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সমঝোতা না করার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাকে আজ অনেকের কাছে ‘বিপজ্জনক’ করে তুলেছে। তবে শত প্রতিকূলতা ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে চরিত্রহননের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি নিজের নীতিতে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই পোস্টটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য বর্তমান প্রশাসনের ভেতরকার চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কারের পথে থাকা বাধাগুলোকে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)