Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

হরমুজ বাধা হয়নি: বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ১৫ জাহাজ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৮ মার্চ,২০২৬, ১০:৩৭ এ এম
হরমুজ বাধা হয়নি: বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ১৫ জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে অন্তত ১৫টি জাহাজ। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার আগমুহূর্তে জাহাজগুলো প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এসব জাহাজের মধ্যে চারটিতে এলএনজি এবং দুটিতে এলপিজি রয়েছে। এছাড়া ৯টি জাহাজে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল বহন করা হচ্ছে। জ্বালানিসংকটের আশঙ্কার মধ্যে এই জাহাজগুলোর আগমন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ওমানের সোহার বন্দর থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ আজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে মেঘনা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। অন্যদিকে কাতার থেকে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসানিয়া’ নামে আরো দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।

সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরো কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, ‘আল গালায়েল’ এবং ‘লুসাইল’ নামে আরো দুটি জাহাজ আগামী সোমবার ও বুধবারের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সংঘাত শুরুর দুই থেকে সাত দিন আগে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়। কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে।

ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একজন জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘মোট ১৫টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে এলএনজি ও এলপিজিবাহী চারটি জাহাজ রয়েছে। জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেও এই খবর কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কারণ হরমুজ প্রণালির ওপারে এলএনজিবাহী আরো দুটি জাহাজ এবং একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব রিফায়েত হামিম বলেন, বন্দরের রেকর্ডে সাধারণত জাহাজের সর্বশেষ ছেড়ে আসা বন্দরের তথ্য থাকে। সে কারণে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এসেছে তা নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে এলএনজি, এলপিজি ও সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল বহনকারী বেশকিছু জাহাজ সাধারণত এই প্রণালি ব্যবহার করেই আসে।

তিনি জানান, এ ধরনের ১০ থেকে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে এবং আরো দুই থেকে তিনটি জাহাজ আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)