নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের দিনভর লেবুতলা ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের দিনভর লেবুতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। তিনি ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের কোদালিয়া বাজার থেকে এই প্রচারণা শুরু হয়। এরপর লেবুতলা গ্রামের হিন্দু পাড়ায় মন্দিরের সামনে এক বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দুপুরে স্থানীয় নারীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লেবুতলা গ্রামের হিন্দু পাড়ায় মন্দিরের সামনে এক বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয় ধ্রুব নিউজ
পথসভায় বক্তব্যে ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বলা হচ্ছে জামায়াত ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘুরা ধর্ম পালন করতে পারবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—ইসলামে অন্যের ধর্মে বাধা দেওয়ার কোনো স্থান নেই। হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলমান—সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে মন্দির পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না, কারণ আমরা সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট সংস্কারসহ যশোরের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা কখনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা দখলবাজির রাজনীতি করি না। তারপরও আমাদের নিয়ে কেন এই মিথ্যাচার—সেই প্রশ্ন আমি জনগণের কাছেই রাখলাম।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ভিপি আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে জামায়াত কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভোট দেওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার, সেখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।
গণসংযোগকালে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর এনসিপি সমন্বয়ক নুরুজ্জামান, যশোর সদর জামায়াতের থানা সেক্রেটারি আব্দুল হক , লেবুতলা ইউনিয়ন সভাপতি ইসহাক আলী, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান, যুব বিভাগের সেক্রেটারি রাহানুজ্জামান আজাদ। দিনব্যাপী এই প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।