Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

জাতীয় সংসদের আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৯ জুন,২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন,২০২৬, ০১:০৭ এ এম
জাতীয় সংসদের আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে আজ সরগরম ছিল জাতীয় সংসদ। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা বিরোধী দলীয় নেতার এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দীর্ঘ বক্তৃতা করেন। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

ইসলামী ব্যাংক থেকে বের হওয়া টাকার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত নয়, বিরোধীদলীয় নেতার এমন বক্তব্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘উনি চ্যালেঞ্জ করেছেন, গোল্ড মেডেলও দিতে বলেছেন। এই দাবিটা কিন্তু সালমান রহমানও করতে পারে, এই দাবিটা এস আলমও করতে পারে। কারণ, তারা তো নিজের নামে কেউ টাকা নেয় না।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটার সঙ্গে কিছু ব্যাপার আছে। ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে যে উগ্র মিছিল এবং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, উচ্ছৃঙ্খল-উগ্রতার সঙ্গে যে ধরনের প্রতিবাদ করা হয়েছে এবং এটা এখনো অব্যাহত আছে। এটার সঙ্গে বিরোধী দলের আশঙ্কা প্রকাশের যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছি। কারণ, যারা উইথড্র করে (টাকা) চলে গেল, এরা কারা? নিশ্চয় চেয়ারম্যানের কারণে উইথড্র করে নাই।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা টাকা উত্তোলন করে চলে গেছে, তারা বোধ হয় ইসলামী ব্যাংকটাকে বিপদে ফেলতে চাচ্ছে এবং এর পেছনে কারও হাত আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো কোনো শক্তির হাত আছে। তারা আসলে চায় ইসলামী ব্যাংক ফেল করুক। তারা রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করতে চায়।’

ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চেয়ারম্যানের চরিত্র সম্পর্কে উনাদের মন্তব্য...কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলেছে, তাঁদের (চেয়ারম্যান) কিছুই পাওয়া যায়নি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনো ব্যাংকের গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায়, এটার কোনো নজির দুনিয়ায় নাই। কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে গ্রাহক ধার ধারে না। গ্রাহক ধার ধারে তার ইন্টারেস্ট রেট ঠিকমতো পাচ্ছে কি না, টাকাটা ফেরত পাবে কি না এবং আস্থা আছে কি না, সেগুলোর।’

এই প্রশ্নগুলো বিগত নির্বাচনে ‘টাকার ছড়াছড়ির’ কারণে সামনে এসেছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আমরা বিপুল অঙ্কের টাকার সম্মুখীন হয়েছি। এমন এমন ক্যান্ডিডেট যাঁদের কোনো ব্যবসা নেই, বাণিজ্য নেই...নির্বাচনে আইন ভায়োলেট করেও ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে নিজের পয়সা খরচ করতেছেন। এমন এমন ক্যান্ডিডেট ছিলেন, যাঁদের তেমন কোনো আয়ের উৎস সম্বন্ধে জানা নেই। তাঁরা ৫০ কোটি, ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই প্রশ্নগুলো আসছে কিন্তু ওই জায়গা থেকে এবং এটাই কিন্তু পাবলিক নলেজ। সবার কাছে এত টাকা কীভাবে খরচ করতে পারে?’

এ ধরনের অর্থ ব্যয় নির্বাচনী ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং এই টাকা রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিএনপি আর্থিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সময় আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বিএনপি সেই জায়গা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আরও ভালোর দিকে যাচ্ছি। আর্থিক শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয়তা বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ অনুধাবন করে না।’
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের ওপর বক্তৃতায় দেশের টাকা বিদেশে পাচারে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘এখন বলা হচ্ছে–আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে, ইসলামের ওপর হাত দেবেন না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক–ইসলাম নয়। আমাদের জনাব ফখরুল ইসলাম–ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামী–ইসলাম নয়।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘যেহেতু দাবি উঠেছে, এস আলম গ্রুপের লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমরা দাবি করছি—সমস্ত অর্থ পাচারের তদন্ত করা হোক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে করা হোক। যারা বাংলাদেশের টাকা, মানুষের টাকা পাচার করেছে বিদেশে, সকলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে তাকবিরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে আরডিএস নামে একটা প্রকল্প আছে। এটা হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামে।

বিরোধী দলের নির্বাচনকালীন কর্মকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভোটের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভোটের সময় তাঁর কর্মী এক বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করেছেন–‘মা আপনি কোথায় দিলেন? বলছে যে বাবা বলছে কোরআনের দল, না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে। বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে। আরও ১০ হাজার টাকা পাব। এইভাবে বোনাস হিসেবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া নিশ্চয়তাও দিয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই তাকবির দিয়ে ব্যাংক দখল করার পর যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার। কোনো আইন–কানুন না দেখিয়ে তাদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সবাই একটি রাজনৈতিক মতাবলম্বী। ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা না। তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে।

সংসদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অনিয়মগুলো তো হয়েছে মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই তো হয়েছে বলে মনে হয়। সুতরাং এগুলো তদন্ত হলে হয়তো বা আমাদের কারও কারও নাম ওখানে চলে আসতে পারে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে একটি গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল বিক্রয় করে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুষ্টু লোকেরা বলে–সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে। তারা একটা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেই টিভি চ্যানেলটা কোন পক্ষে খেলছে, সেটা আমরা জানি। তার ব্যাংক লাইবিলিটি হচ্ছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হচ্ছে না? সে জন্য তদন্ত হবে।’

সকল আর্থিক লেনদেনের বিচার হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল করপোরেট রেসপন্সিবিলিটির নাম দিয়ে যারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিমানের টিকিট পর্যন্ত ব্যাংকের থেকে করিয়েছে, সেগুলোরও তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তার উত্তরে বলা হয়েছে–যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এই অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। যদি নতুনভাবে অভিযোগ আসে, সেটা তদন্ত হবে।

 
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ার জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল, দাবি করে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির বর্তমান সংকটের সমাধান করতে হলে অতীতে যাদের কাছ থেকে শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, তাদের কাছেই মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। নোটিশটি এনেছেন বিরোধী দলীয় নেতা।

নোটিশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানানো হয়। শফিকুর রহমান বলেন, ‘জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে এই শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অতীতে বিশেষ একটি গোষ্ঠী চাপ সৃষ্টি করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘শেয়ার কী, সেই শেয়ারগুলো কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে, সারা দুনিয়া জানে। বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে তাদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। তার মতে, ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটি সততা, দক্ষতা ও গ্রাহকসেবার মাধ্যমে দেশের অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এই ব্যাংক এককভাবে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ পর্যন্ত দেশে এনেছে। ডিপোজিট, তারল্য ও বিনিয়োগে এটি ছিল অনন্য।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এটা সকলের ব্যাংক। শুধু জামায়াতের মানুষের ব্যাংক নয়, বিএনপির বহু মানুষ আছেন, অন্য দলের মানুষ আছেন, অন্য ধর্মের মানুষ আছেন।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপকে ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যাংকটাকে ধ্বংস করেছেন শেখ হাসিনা। এস আলমকে তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ব্যাংকটি দখলের পর বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয় এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

নোটিশেও বলা হয়, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি এবং খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল ৪ শতাংশ। পরে নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে খেলাপি বিনিয়োগ মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
 

 বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন উল্টো ব্যাংকের ভেতরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

তাহের বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব যে আগের মতো করে ইসলামী ব্যাংকে ইসলামি কায়দায় সৎ লোকদের দিয়েই পরিচালিত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এস আলমের লোককে বসানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো এস আলমের লোককে ইসলামী ব্যাংক আশ্রয় দিতে পারবে না।’

ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, তাঁদের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিল এবং গ্রাহকদের আস্থাও পুনরুদ্ধার হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করার কারণ সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

তাহের বলেন, ‘কোন কারণে চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন করা হলো, কোন কারণে এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো, সেটি জাতির কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুককে পুনর্বহাল করে আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে তাহের অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপ বর্তমানে ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অন্যান্য শেয়ারধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ডিজিএফআইকে দিয়ে জোর করে দখল করে নিয়ে গেছে। তাই প্রকৃত শেয়ারধারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)