কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত
স্থায়ী বসতভিটা ও স্থানীয় ঠিকানা না থাকার অজুহাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং শিক্ষামন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপে অবসান ঘটেছে সব জটিলতার।
সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, মিশন আচার্যের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে শিক্ষক হিসেবে তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মিশন আচার্যের নামের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো ‘শিক্ষক’ পরিচয়।
জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ তাঁর অনুকূলে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি এক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মিশন আচার্যকে সাথে করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের দপ্তরে যান। তাঁর এ আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়।
বিষয়টি জানার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং প্রশ্ন তোলেন, “বাংলাদেশে কি কোনো ঠিকানাহীন মানুষ চাকরি পাবে না? এ কথা কি কোনো সংবিধানে বা সরকারি পরিপত্রে উল্লেখ আছে?”
শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পর তৎপর হয়ে ওঠে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সব প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা নিরসন করে সোমবার বিকেলে তাঁর শিক্ষক পদমর্যাদা ও নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খান বলেন, “কোনো নাগরিকের যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও শুধু মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে সে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে—তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে খবরটি দেখার পরপরই আমার মনে হয়েছে, একটি প্রশাসনিক ও মানবিক ভুলের কারণে একজন যোগ্য তরুণ স্বপ্নভঙ্গের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমি মিশনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের কাছে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছেন। আজ মিশনের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছানোয় আমরা আনন্দিত। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে গণমাধ্যমের সোচ্চার ভূমিকা এবং সরকারের ইতিবাচক মনোভাব থাকলে যেকোনো প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন সম্ভব। আমি আশা করি, শিক্ষক মিশন আচার্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দেবেন এবং সমাজ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখবেন।”