নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনায় করা মামলার আসামিদের শনাক্ত করা যায়নি। ফলে বিভিন্ন সময়ে আটক সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন।
অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন— মো. আব্দুল খালেক (৬৫), মো. এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) এবং মো. ইমন কাজী (২৬)।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের যশোর শহরের চিত্রা মোড় এমএম আলী রোডে 'জাবির ইন্টারন্যাশনাল' নামে একটি পাঁচ তারকা মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে ওই হোটেলের মধ্যে ঢোকে। দুর্বৃত্তরা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা চুরি করে। এরপর ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, হোটেলের স্টোরে রাখা বিভিন্ন প্রকার মালামাল, আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে হোটেলের ১ম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ওই হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। নিহতদের মধ্যে হোটেল স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন।
হোটেলের আলমারিতে রাখা তাঁর ভাইয়ের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে রাখা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় ইলেকট্রিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল ও গ্লাস দরজার যাবতীয় ডেকোরেশন পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এ ছাড়া মূল ইমারতের ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব ছিল না। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
এ মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন সময়ে সাতজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমান না পাওয়ায় ওই সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।