কবিতা
চূড়ান্ত প্রেম
ঈশ্বর—
আমাকে পশ্চিমে হেঁটে যেতে বলল
আমি দৌড় দিলাম
আর ছায়ার সঙ্গে মিইয়ে যাচ্ছি
আর দূর থেকে ভেসে আসছে
হাঁটো এবং হাঁটো
আমি কিছুই শুনছি না, শুনেও যা-তা
অথচ ঈশ্বর এই মধ্যবিত্ত দেখে না খুশি
এত নিয়ম করবার ভেতরে তাড়াচ্ছিল
ক্রমাগত ভুলে যাচ্ছি
আমার আমি না, এইসবের পাশে
ক্লান্ত আর সারাদিনের প্রেম বেঁধে রাখি
—তারই আঙ্গুলে,
—তারই ধনুক তিরের মুখোমুখি!
রক্তচাপ
কোনো সন্ধ্যায় ফুসফুস ভরতি মৃত্যুর বিকল্প ভেবে তোমাকে বেছে নেব—কোমল প্রেম;
ছেড়ে যাক—অদূর থেমে থেমে ফিরে যাওয়া
—মায়াসুখ, তাতে কী
আমাদের বাড়ি হতে দেখা যায়
অ্যাপ্রোন পরা হাসপাতাল, সকলে আসে, যায়—
নতুন সুখের গল্পে
এমন তল্লাটে অসুখ কোনো ব্যাপার না।
পুষে রাখা শাদা বেড়াল, যার নাম থুতনিকর্মির
সুন্দরি সেবা;
কোনো অবশিষ্ট থাকল না, মাছলবণে খেলে গেল
সদ্য সংবাদপত্র, তাকিয়ে দেখি—তারও উচ্চ
রক্তচাপ—কবিতা বানানো পেশাদার, আমার তো
সৌভাগ্য—কবিতা একটা চিলেকোঠার দরজা,
মুখ খুললেই
দালান শুদ্ধ চকচকে পৃথিবী। কী ভয়ানক সুন্দর!
মাইকে বাজছে পৃথিবীর সংগৃহীত গান
—ঠিকই জানি, এইমাত্র আমার জন্ম হলো,
পাখির ছায়ায় জবাগাছ
দেখছি, লাল জবা—হাসপাতাল ঘেষে ভূদোল খায়!
যোগাযোগ
রেলস্টশনের একদম পাশেই বাড়ি
—তীরবর্তী জনপদের শুক্রবার,
সুতোকাটা ঘুড়ি উড়ে যায়—দূরে,
মশলা বন পেরিয়ে—গদ্যের মতো;
শিশুদের সাঙ্গপাঙ্গ—সদ্য দুপুরে
একে অন্যের মধ্যে নেমে গিয়ে
ঢল্লামুখে হাসছে
দূরের সাইকেল ফেরা এনজিও নারীর
ঘোরতর ঠোঁটে মিষ্টি এক লহমা—
প্রবেশ করে, যত্নশীল হয়ে উঠেছে
হাওয়ার শিস খুটে
প্রজাপতির নীল কৌতুক, দূরবিন্দুগুলো;
—ভীষণ একটি দিনের ভেতরে
উজান মানুষের সদল ফিরে এলে,
সেসব প্লাটফর্মে বসে যোগাযোগ দেখি!