[বহুগুণে গুণান্বিত একজন সৃজনশীল মানুষ গাজী এনামুল হক। কবি, গীতিকার ও সুব্ক্তা হিসেবে পরিচিতি এই বাতিঘরতুল্য ব্যক্তিত্ব পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী। সাম্যের জন্য রাজনীতি করছেন সেই ছাত্রজীবন থেকে। সমাজ বদলের মন্ত্রণা থেকে এবার নেমেছেন নির্বাচনে। মানুষের কথা বলতে যেতে চান সংসদে। আমরা কবির জন্য শুভ কামনা জানাই। খড়ের গম্বুজ বিভাগে আজ তার পুরনো তিনটি কবিতা প্রকাশিত হলো। প্রতিটি কবিতায় কবির রোমান্টিক মননের এক অভূতপূর্ব চিন্তার সন্ধান পাই। স্বপ্নবাজ এই কবির আসুন সেই তিনটে কবিতা পড়ি। বি.স]
পানসি ভরা স্বপ্ন নিয়ে
পাল তুলেছি পাড়ি দিতে
দুর্ভাবনার গহীন নদী
অস্থিরতার দাঁড় টেনে ঐ
সামনে দেখি সম্ভাবনার
নীল যমুনা ছুটছে কেবল
সাগর পানে-
তাই বলে কি দূরের বাতাস
বুক ছুঁয়ে যায় চন্দ্রালোকে!
দুরন্ত এক জল পারাবত
ঢেউ খেলে যায় জীবন জুড়ে
উচ্ছলতার কলস্বরে
তাইতো আমি বুক বেঁধেছি
গভীর জলে-
কাটছি সাঁতার সাত সাগরে ঝিনুক খুঁজি
গাঁথতে মালা মুক্তা দানার সাহস নিয়ে-
তাইতো আমার ইচ্ছে জাগে
কাশফুলেরা দোল খেয়ে যাক
আমার বুকের সবুজ বনে
সংগোপনে-
হঠাৎ করে চোখ রেখেছি
মন ঝরকায় দেখবো আকাশ
অহর্নিশি-
আকাশ ভরা তারার মাঝে
মিলবে কি মোর ধ্রুব তারা
প্রাণ মাতানো সফলতার!
রোদ্র মাখা ঝলমলে দিন
কাটবে কি রোজ সূর্য দেখে!
কালশিটে চোখ
বাতাসের মৌ মৌ গন্ধ হারিয়ে গেছে
এখন নিদাঘ চৈত্রের দীর্ঘশ্বাস-
তুলেছে মাতম বিরান মাঠের প্রান্তরে প্রান্তরে
বাসি ফুলের মতন
নধর শরীর তার
ঝিমিয়ে পড়েছে যেন
ভোরের শান্ত নদী,-
কোন সাড়া নেই তার
দোলা নেই
ঢেউ নেই
নেই তার বুকের কাঁপন।-
মসলিম জ্যোছনায় খোঁজে না সে সমুদ্র ঝিনুক
কোথায় হারিয়ে গেল রূপালি ইলিশের ঝাঁক!
জলপারাবত আর দোলেনাকো
ঢেউয়ের দোলায়
ফারাক্কার মরণ ছোবল-
ক্ষয়রোগে জীর্ণ হৃদয়-প্রজাপতির ভেঙ্গেছে ডানা
সুতীব্র বাসনার নির্বাসনে পথ হাটে অবিরাম
সম্মুখে নীল নীল প্রান্তর ছেড়ে বালুময় ধূসর মরু।
পদ্মার চর যেন জেগে ওঠা
বিরহিনীর কালশিটে চোখ।
একপঞ্চাশ
দ্রুতগামী অশ্বের খুরে উড়িয়ে পথের ধুলো
হাঁপাতে হাঁপাতে তাজী-
পার হয়ে এলো বুঝি একপঞ্চাশ।
সামনে আর কত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলে
পেয়ে যাবে পথের নাগাল-জানে না সে।
পথের ধুলোয় উড়ছে এখনো নলডুব, চাতরা-
শ্রাবণে জেগে ওঠা হরিহর নদী।
শৈশবের সুঘ্রাণে আমার নাসারন্ধ্র সচকিত হয়-
পাঁক খাওয়া ঘুড়ির মতন
উল্লাসে কাঁপছে এক দুরন্ত কিশোর!
কপোতাক্ষের টলমলে যৌবন জলে
এখনো কি সরপুঁটিরা ঝিলিক মারে সূর্যের আলোয়!
তারপর একদিন-
বাঁকফেরা নদীর মতন
স্বপ্নের অহীরা দেয় পথের সামান!
স্বপ্নের দোলনায় দোল খেতে খেতে
ভুলে যায় হতাশার নামতা ছিল যত।
স্বপ্নের প্রহর গুনে জেগে উঠি
অবিরাম স্বপ্নের নদী সাঁতরাই,
সাগর মহাসাগর পাড়ি দিয়ে একদিন
চোখের তারায় ভেসে ওঠে স্বপ্নের সোনালি শহর!
তামাম শহর জুড়ে বিশ্বাসের পায়রাগুলো
নিরন্তর ডেকে যায়-বাকবাকুম-বাকবাকুম।