Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

‘নেকাব খুলতে বলিনি’: কটাক্ষের অভিযোগ অস্বীকার ঢাবি শিক্ষিকার

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর,২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
আপডেট : শনিবার, ১০ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:০১ পিএম
‘নেকাব খুলতে বলিনি’: কটাক্ষের অভিযোগ অস্বীকার ঢাবি শিক্ষিকার

অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নেকাব পরার কারণে কটাক্ষ বা অপমান করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নেকাব খোলা, পোশাক পরিবর্তন করা কিংবা ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য কোনো ধরনের আদেশ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পুরো ঘটনাটির সত্যতা উন্মোচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই শিক্ষক। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাক কিংবা পছন্দের বিরোধিতা করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। মূলত ক্লাসে মুখমণ্ডল পুরোপুরি ঢাকা থাকায় শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা এবং পাঠদানের সময় স্বাভাবিক যোগাযোগ রক্ষায় যে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হয়, তিনি কেবল সেটিই বোঝাতে চেয়েছিলেন।

তাসনিম সিরাজ মাহবুবের ভাষ্যমতে, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে চোখসহ পুরো মুখ ঢাকা অবস্থায় এক ছাত্রীকে দেখতে পান তিনি। শিক্ষার্থীকে চিনতে না পারা এবং সরাসরি দৃষ্টি বিনিময় (আই কন্টাক্ট) করে যোগাযোগের অসুবিধার কারণে তিনি পাঠদানে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে ক্লাসে আলোচনার একপর্যায়ে ধর্মীয় পর্দা, শালীন পোশাক এবং এর প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা উঠে আসে।

ঘটনার পরপরই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর বক্তব্যে আঘাত পেয়ে ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেছেন। জানতে পেরে তিনি সহপাঠীদের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর কাছে খবর পাঠান এবং সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করতে চান। এ জন্য তিনি করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিভাগের গৃহীত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এই শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর কোনো ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ইংরেজি বিভাগের সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ক্লাসের মূল বক্তব্য ও সার্বিক তথ্যাদি নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করে যেন ঘটনাটির সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে তাঁকে বেনামি ফোন, ইমেইল, অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা ও বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীসহ ক্লাসের সবার মর্যাদা ও সুরক্ষা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই সহযোগী অধ্যাপক।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন দেখা দিলে ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যক্তিগত সম্মান ও গোপনীয়তা বজায় রেখে নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ ওঠে শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ জানালে বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির এক সভায় তাঁকে সব কোর্সের পাঠদান থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)