❒ গাছে গাছে অ্যাভোকাডো, মৌসুমের শুরুতেই ৬ বিঘা জমিতে ২০ লাখ টাকার বিক্রি মুসার
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
গাছভরা সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে বড় বড় অ্যাভোকাডো। কোনোটি নাশপাতির মতো, কোনোটি আবার গোলাকার। বাগানে দাঁড়িয়ে একের পর এক ফল দেখাচ্ছেন কৃষি উদ্যোক্তা ও শিক্ষক হারুনুর রশিদ মুসা। প্রচলিত ফসলের বাইরে বিদেশি এই ফল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে কাগমারীর কৃতি সন্তান মাষ্টার হারুন অর রশিদ মুসা এই বিদেশী ফলের চাষ শুরু করেন। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মুসা এই অ্যাভোকাডো চাষে লাভের মুখ দেখেন। পরিবারে আসে শান্তির সুবাতাস। সেই থেকে মুসা মাষ্টারের আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১ বিঘা জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচে শুরু করেন। বিঘা প্রতি দুই থেকে তিন লাখ টাকার অ্যাভোকাডো বিক্রি করে মুসা মাষ্টার হয়ে উঠেন সফল কৃষি উদ্যােক্তা।
তাঁর দাবি, চলতি মৌসুমের শুরুতেই অ্যাভোকাডো বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এখনো বিক্রি চলছে।
একসময় শখ থেকে শুরু করা উদ্যোগটি এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মুসার এই উদ্যোগের পাশাপাশি কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন গ্রামেও অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হচ্ছে। উপজেলার লক্ষীকুন্ডু গ্রামের আব্দুল্লাহ নামে একজন কৃষকও অ্যাভোকাডো চাষ করছেন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদেশী ফলের চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন চাষীরা এবং বেকার শিক্ষিত যুবকেরা । নতুন এই ফলের বাজারমূল্য ও আয়ের সম্ভাবনা দেখে আরও কৃষক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
মুসা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অ্যাভোকাডোসহ উচ্চমূল্যের ফল চাষে এগিয়ে আসতে পারবেন। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বাড়বে আত্মনির্ভরশীলতা। মুসার ভাষ্য, কৃষিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব সহায়তা পেলে শিক্ষিত যুবকেরা নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, উপজেলায় অ্যাভোকাডো চাষের বিস্তার ঘটছে। বর্তমানে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে এ ফলের চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নতুন এই ফলের চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের উপযোগী পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি কর্মকর্তা ও মুসার মতে, সহজ শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ দেওয়া হলে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা এ ধরনের লাভজনক কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বিনিয়োগের আগে জমির উপযোগিতা, মানসম্মত চারা, পরিচর্যা, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
অ্যাভোকাডো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে অসম্পৃক্ত চর্বি, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। উচ্চমূল্যের ফল হিসেবে এর বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকলেও লাভ নির্ভর করে উৎপাদন খরচ, ফলের মান, বিক্রয়মূল্য ও বাজারজাতকরণের ওপর।
মুসার বাগানের অভিজ্ঞতা কোটচাঁদপুরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এ চাষের প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র বুঝতে উৎপাদন ব্যয়, বিক্রির পরিমাণ ও নিট মুনাফার হিসাব জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের তদারকি, সহজ অর্থায়ন এবং নির্ভরযোগ্য বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে নতুন উদ্যোক্তাদের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রচলিত ফসলের বাইরে অ্যাভোকাডো চাষ কোটচাঁদপুরের কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। পরিকল্পিত সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের ক্ষেত্রও হয়ে উঠতে পারে।