আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিক্ষোভের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ ছবি: পিটিআই
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজপথ। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জেরে আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শুধু কেজরিওয়ালই নন, একই দাবিতে আন্দোলন থেকে ভারতের আরও তিন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজ বাসভবনের সামনে থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ।
আটকের পরপরই একটি বাসের ভেতর থেকে ভিডিও বার্তায় নিজের ও দলীয় নেতাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেজরিওয়াল। সেখানে দেখা যায়, বাসে থাকা আম আদমি পার্টির কর্মী-সমর্থকরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ক্রমাগত স্লোগান দিচ্ছেন।
এর আগে, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী যন্তর মন্তরে আয়োজিত সিইসিবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দিতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ‘দিল্লি চলো’ ডাক দেন আম আদমি পার্টির এই শীর্ষ নেতা। বার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এদিকে, আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে মারাত্মক অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে—পুলিশের অভিযানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করা হয়েছে।
দলটির আরও দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ শুধু কেজরিওয়ালকেই নয়, তাদের দলটির গুজরাটের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ নেতা গোপাল রাই, সৌরভ ভরদ্বাজ, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং ও দুর্গেশ পাঠকসহ একঝাঁক প্রথম সারির নেতাকে আটক করে নিয়ে গেছে।
এ দিনের অভিযানে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে, কারণ এই আন্দোলনের জেরে ভারতের মোট চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হলো। কেজরিওয়ালের আগেই এই সিইসিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
বিরোধী দলগুলোর এমন তোপের মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকট ও রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।