আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। আজ শুক্রবার সৌদি আরবের জেদ্দায় এক ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছে তিন মুসলিম পরাশক্তি—সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে সরাসরি অবগত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং তার জের ধরে উপসাগরীয় অঞ্চল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পর নিজেদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশ তিনটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিন দেশের মধ্যে এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা এই আলোচনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ অপর একটি সূত্রের বরাতেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে শুক্রবারই এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের এই বিশেষ দিনটিতে জেদ্দায় একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মুখোমুখি হচ্ছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবারই সৌদি আরবে পৌঁছানোর কথা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের।
অন্যদিকে, এই কৌশলগত চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে আগেই সৌদি সফরে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ৮ আগস্টের নির্ধারিত এই তিন দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবারই তিনি জেদ্দায় অবতরণ করেন এবং শনিবার পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন পুরো অঞ্চলের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে, ঠিক তখনই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই ঐক্যবদ্ধ সামরিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ত্রিদেশীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও সামরিক শক্তিসমীকরণে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।