আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ইয়েমেনের সরকারি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অতর্কিত রকেট ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে দেশটির হাদরামাউত ও মারিব প্রদেশের সীমান্ত সংলগ্ন সেনাশিবিরে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি পরিচালিত হয় সৌদি আরব সমর্থিত হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস এবং ফার্স্ট মিলিটারি রিজিয়নের নবীন সেনাদের প্রশিক্ষণ চলাকালে।
ইয়েমেনি সেনাসূত্র নিশ্চিত করেছে, মারিবের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ থেকে এ হামলা চালানো হয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেনাবাহিনী একে সম্প্রতি তাদের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছে।
একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, ইয়েমেন সীমান্ত ঘেঁষা সৌদি আরবের নাজরান শহরে হুথিদের ছোঁড়া প্রক্ষেপকে নারী ও শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। তবে এ অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত এ হামলার দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের আঘাতেই ‘শত শত’ সেনার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির পাল্টা জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে, ইয়েমেনি সেনাদের সৌদি শিবির ছেড়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। এছাড়া ইয়েমেনের কনসালটেটিভ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন অথরিটির সহ-সভাপতি আবদুল মালিক আল-মেখলাফি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, কোণঠাসা হয়ে হুথিরা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার হীন কৌশল নিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সানা বিমানবন্দরে একটি ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দেয় ইয়েমেন সরকার। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর জের ধরে গত জুলাইয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত বাণিজ্যিক পথও এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।