Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই,২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই,২০২৬, ০৮:২১ পিএম
মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আটক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান থেকে আটক হন রাহুল পিয়াঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারাসহ দলটির বেশ কয়েকজন নেতা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।

বিকেলে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে ওই কর্মসূচি শুরু হয়। সেখান থেকে চারটি দাবি জানায় কংগ্রেস। সেগুলো হলো- শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা নিয়ে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

কর্মসূচি চলার সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগেরও দাবি জানান রাহুল। কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস এমপিদের আটক করতে শুরু করে। প্রথমে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে। এরপর আটক হন এমপি সুখজিন্দর সিং।

একাধিক এমপি আটক হলেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও কয়েকজন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে পুলিশ কংগ্রেসের এই দুই শীর্ষ নেতাকেও আটক করে নিয়ে যায়। তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রাহুলকে আটকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে হিন্দুস্থান টাইমস। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, পুলিশ জোর করে রাহুলসহ অন্য এমপিদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর আটক করেছে।

আটকের আগে কংগ্রেস এমপি সুখজিন্দর সিং গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এমপিদেরই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ছাত্রদের সঙ্গে কী হচ্ছে ভেবে দেখুন।’ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সাড়ে সাতটা) পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে বাকিদেরও সরিয়ে দেয়।

এরআগে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবিতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা। সেখানে দলটির নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী উপস্থিত আছেন। অবস্থান নিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলারও প্রতিবাদ জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাহুল। এ সময় মিছিল থেকে নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। এনডিটিভিতে সরাসরি প্রচারিত খবরে বিকেল পাঁচটার দিকেও তাদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, আর সংসদে এ নিয়ে আলোচনাও করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’

সোমবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কয়েক হাজার তরুণ সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। এতে নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পথে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।

ভারতের আরেক গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জানায়, শিক্ষার্থীদের মূল প্রতিবাদস্থল যন্তর-মন্তরের আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা যন্তর-মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকালে পুলিশ জানিয়েছিল, এলাকাটিতে এখনও ১৬৩ ধারা বহাল আছে।

পুলিশের হামলায় আহতদের সঙ্গে দেখা করতে সকালে দিল্লির একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় এক ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ পাশাপাশি তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে এনডিএ জোটের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের কাছে গিয়ে তাদের সংশয় দূর করতে এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে মোদির বক্তব্যের বরাত দিয়ে ওই সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে।

এদিকে সংসদ অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটার পরদিন দিল্লির যন্তর-মন্তরে আবারও জড়ো হয়েছে কয়েক হাজার তরুণ। মূলত এই স্থান থেকে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন।

মঙ্গলবার সকাল ও দুপুরের দিকে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বিকেলে তরুণদের ‍উপস্থিতি বাড়ে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, সোমবার পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও জোরালো করেছে। 

শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে মঙ্গলবার যন্তর-মন্তরে গিয়েছিল পার্লামেন্টের বাম ধারার এমপিদের একটি প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে তারা সোমবারের ঘটনা নিয়ে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান। 

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআই (এম)-এর রাজ্যসভার এমপি জন ব্রিটাস, এএ রহিম, ভি শিবদাসন এবং সিপিআইয়ের পি সন্দোশ কুমার এবং সিপিআই (এম)-এর লোকসভার সদস্য অমরা রাম ও সু ভেঙ্কটেশন। এনসিপি (এসপি) নেতা শরদ পাওয়ারও শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে যন্তর-মন্তরে গিয়েছিলেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন কংগ্রেসের নেতারা। এতে বাকিদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক্স পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘যেসব দেশপ্রেমিক ভারতীয় বিশ্বাস করেন আমাদের ছাত্ররা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।’

দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের এমপি সুখজিন্দর সিং বলেন, ‘এমপিদেরই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ছাত্রদের সঙ্গে কী হচ্ছে ভেবে দেখুন।’ পরে পুলিশ সুখজিন্দরকেও আটক করে।

কংগ্রেসের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে চারটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো- পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

বিকেলে কর্মসূচি শুরুর পরপরই এক্সে একটি পোস্ট দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এতে তিনি লিখেন, ‘গতকাল (সোমবার) তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।’

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)