আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আলজাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আইআরজিসি-র পৃথক দুটি বিবৃতি অনুযায়ী, কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডারে সফল আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারে হামলা চালিয়ে একাধিক সামরিক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হয়।
পরবর্তী এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে অবস্থিত আগাম সতর্কীকরণ রাডার, এফপিএস-১১৭ রাডার, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট কেন্দ্র নিশানা করা হয়। ইরানের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া।
আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের সেনাবাহিনীও কুয়েতে ‘কামিকাজে ড্রোন’ দিয়ে সমান্তরাল অভিযানের কথা জানিয়েছে। এতে ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয়কারী অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনা আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
অন্যদিকে, একটি পৃথক অভিযানে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজনের কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী। তাদের দাবি, সম্প্রতি ইরানের দারখোভিন এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কারণেই স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এসব ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে এসব হামলার বিষয়ে কুয়েত বা বাহরাইন কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) কিংবা অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।