Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দস্তগীর: শিল্প ও সংলাপে

রেজাউর রহমান রেজাউর রহমান
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ০১:৫২ এ এম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই,২০২৬, ০২:১২ এ এম
দস্তগীর: শিল্প ও সংলাপে

যা দেখা বা অদেখা দৃশ্য মানুষ্য স্মৃতিতে নানাভাবে আঘাত করতে করতে যে দৃশ্য গল্পের সৃষ্টি হয় তা নানা ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে মানব সভ্যতাকে বিকশিত করে, তার মধ্যে অন্যতম ভাষা হল দৃশ্যশিল্প, এক কথায় শিল্পকলা। ধর্মজ্ঞান বা বিজ্ঞান বলি আসলেই মানুষের সভ্যতার ইতিহাস নির্ণয় করতে গেলে এই চিত্রকলার উপর নির্ভর করে ইতিহাসকে জানতে হয়েছে, ফলে চিত্রকলার শুরু কবে বললে উত্তর হবে মানুষের পৃথিবীতে আগমনের সাথে সাথে এবং মানুষ প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে ইচ্ছেই বা সুপরিকল্পিতভাবে নানা আঁচড় কেটে নানা, কিছু বোঝাবার মধ্য দিয়ে ছবি আঁকার সূত্রপাত ঘটায়।

ছবি আঁকা মানুষের জীবনের সহজ একটি ভাষা, এই ভাষা মানুষকে সভ্যতার ক্রমবিকাশের পথকে করেছে মসৃণ। হোমোসেপিয়েন্স মানুষ থেকে আজকের বিজ্ঞানের আধুনিক সময় পর্যন্ত এই ভাষা, যা চিত্রকলা বলছি তা  থাকবে; কারণ এটি অনুভূতির সাথে সংযুক্ত।

তাহলে প্রশ্ন আসে শিল্প কী?এর সাথে কী যুক্ত থাকে?

সাধারণভাবে সৌন্দর্য অনুভূতিকে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অনুভূতি বলে মনে করা হয়। তাহলে মানুষ মাত্রই সৌন্দর্যের ভিত্তিতে অনুভূতিশীল, এই অনুভূতি কখনো কোন ছকের উপর নির্ভর করে চলেনি, হয়তো চলবেও না। মানুষ সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে সৃষ্টির মধ্যদিয়ে, লেখনীর মধ্যে দিয়ে আবিষ্কার করেছে অক্ষর মালা তার শুরু এই চিত্রকলা পাঠের মধ্যে দিয়ে।

"রং আর রেখা কখনো বলে ফেলে, এমন কিছু কথা যা শত শব্দেও বলা যায় না "

এমনই শত শব্দের না বলা কথাকে এক জায়গায় করে চিত্রকর্ম সৃষ্টিরত শিল্পী, চিত্রসমালোচক, শিল্প  সংগঠক, শিল্পী  সৈয়দ গোলাম দস্তগীর। শিল্পী মনে করেন ছবি আঁকার শুরু, কোনো দিনক্ষণ বা ভাবনা দিয়ে হয় না। অব্যক্ত কথা প্রকাশের জন্য যে আঁচড় তিনি দেন তা কখন সঠিক সময় বলা মুশকিল। শিল্পী দস্তগীর প্রতিষ্ঠানকে প্রথম থেকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছেন, কিন্তু অশ্রদ্ধার পাত্র  নন তিনি। তার শিক্ষক যদি বলা হয় তাহলে প্রকৃতি, সমাজ, সমাজের সৃষ্টির গল্প ও কর্মকাণ্ড, বিজ্ঞান, ধর্ম এবং রাজনৈতিক ভাষা, সবই তিনি নিজস্ব ভঙ্গিতে পাঠ করেছেন। দস্তগীর শিল্পে রঙ, রেখাকে ব্যবহার করেছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে।

"faces of marketer one to many "  শিল্পীর এই কাজ ১৯৯৯ এর দিকে যেখানে শিল্পী জল রং ব্যবহার করেছেন। নিজস্ব ভঙ্গিতে মুখোমুখি দুটি মুখ কিন্তু চাহনীতে আদিমতার গল্পকে বহন করে। আবার যদি আরো আগে " my art my Sky " সিরিজের কাজ দেখি তবে সেখানে দেখা যায় শিল্পীর স্বাধীনতার এক অপূর্বরূপ। দেখলে মনে হয়, আকাশ নিজস্ব এবং পৃথিবী থেকে দূরে। দিনের আলোতে নানা রঙের চাঁদকে শিল্পী ধরতে চাইছেন। আবার যদি "post artificial intelligence era"যে সিরিজ কাজটি শিল্পী ১৯৯৮ সালের দিকে করেছেন তাও জল রং ব্যবহার করে এবং বর্তমানের (AI)  artificial intelligence যা খুবই ব্যবহৃত প্রযুক্তি সেটি কে চিত্রকলার ভাষায় দিয়ে আগেই শিল্পী বর্ণনা করেছেন। কিছুটা futurism এর কথা মনে করিয়ে দেয়।

শিল্পীর কাজে জ্যামিতিক ফর্মের ব্যবহার লক্ষণীয় পর্যায়ে তখনকার কাজের মধ্যে, কিন্তু শিল্পী যে সকল কাজেই বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন বিশ্লেষণের ভিতর দিয়ে যাযন তা শিল্পী যখন চিত্র সমালোচক হয়ে লেখেন অন্য শিল্পীর কাজ নিয়ে তা পড়লে আমরা দেখতে পারি। শিল্পীর কলমও যেভাবে ধারালো রূপ নিয়েছে সময়ের সাথে সাথে, ঠিক তেমনি শিল্পীর বর্তমান চিত্রকর্ম হয়েছে স্বল্পভাষী। শিল্পী ২০০৬-৭, এর সিরিজ কাজে দেহতাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে যে বিশ্লেষণ করেছেন বিশেষ করে নারী দেহের, তা থেকে এখনকার কাজ দেখলে বোঝা যায় শিল্পী দস্তগীর নিঃশব্দের বাকপটু। দস্তগীরের চিত্রকলার অন্যতম একটি প্রধানতম হাতিয়ার  বিভিন্ন রকম রঙ ও অনুষঙ্গের ব্যবহার, এটা নিয়েও নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন,এবং তার শুরু হয়তো বুদ্ধি লাভ করবার পর থেকেই।

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত জিনিস নিয়ে তৈরি করা শিল্পকর্ম, যা শিশুদের জ্ঞান চর্চার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, তা শিল্পী নিজেও করেন এবং ছড়িয়ে দিচ্ছেন কর্মশালার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্প চর্চার কৌশল। সেই শৈশব থেকে শিল্প সংগঠক তিনি। হাল ধরেছেন চারুপীঠ যশোরের যেখানে শিশুদের ছবি আঁকার নয় ছবি নিয়ে ভাবনার কৌশল শেখানো হয়। সান্নিধ্য পেয়েছেন শিল্পী এস এম সুলতান, মোহাম্মদ কিবরিয়া, মোস্তফা মনোয়ার, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ শিল্পীদের এবং তিনাদের শিল্পকর্ম নিয়ে লিখেছেন জনপ্রিয় দৈনিক ইত্তেফাক, প্রথম আলোসহ গুরুত্বপূর্ণ সব দৈনিকে। শিল্পী শুধু দেশকে পাঠ করেননি দেশের বাইরে শিল্পবিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। শিল্পী দস্তগীর শিশুদের নিয়ে চারুপুথী ( ২০১৪), চারুপীঠ(২০১৭), এবং জাগরণী চক্রে করেছেন কর্মশালা, বিষয় একটি বই প্রস্তুত করা হয় সফলভাবে। শিল্পী দস্তগীর দেশ ও দেশের বাইরে শিল্প বিষয়ক সেমিনারগুলোতে নিজের ভাব ব্যক্ত করছেন নিয়মিত। নানান কর্মশালায় অংশ গ্রহণের ভেতর দিয়ে নিজেকে পোক্ত করেছেন তারমধ্যে অন্যতম, বয়নশিল্প, গ্রাফিক্স আর্ট ।

দস্তগীরের লেখা এবং ছবি দুটিই বলে দেয় সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে, তারই সূত্র ধরে শিল্পী যশোর এস এম  সুলতান আর্ট কলেজে কর্মশালা করিয়েছেন। শিল্পী নিজে অংশগ্রহণ করেছেন অসংখ্য শিল্প শিবিরে। শিল্পী একক এবং দলীয় প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন।

শিল্পী, সমালোচক, দস্তগীর নিজেই নিজের সত্তাকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাচ্ছেন, নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী কখনো লেখায় বা চিত্রে। একটি কাটাতারবিহীন পৃথিবীর মত তার শিল্পের বিচরণ চলুক এই মহাযাত্রায়।

 

লেখক:  চিত্রশিল্পী 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)