নিজস্ব প্রতিবেদক
যবিপ্রবি’র শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্টে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবিটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান ও সহধর্মিণী ফিরোজা পারভিন। ছবি: সংগৃহীত
অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্টে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবিটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান ও সহধর্মিণী ফিরোজা পারভিন ৫০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন।
আজ রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের কাছে ৫০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন এই দম্পতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এটিই প্রথম এবং বৃহত্তম অনুদান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অনুদানের মাধ্যমে ‘প্রফেসর ড. শেখ মিজানুর রহমান ও ফিরোজা পারভিন শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করা হবে। ট্রাস্টের মূল টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে গচ্ছিত থাকবে। এই আমানত থেকে প্রাপ্ত বাৎসরিক লভ্যাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের অসচ্ছল অথবা মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি হিসেবে প্রদান করা হবে।
চেক হস্তান্তরকালে ড. শেখ মিজানুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কিছু করার ইচ্ছা আমাদের দীর্ঘদিনের। আজ সেই নিয়ত পূরণ হলো। ছোটবেলা থেকেই সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, আজ নিজের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমরা চাই না আর্থিক সংকটে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থমকে যাক।”
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, যবিপ্রবির ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক। একজন শিক্ষকের এমন ত্যাগ শিক্ষার্থীদের শুধু আর্থিক সহায়তাই দেবে না, বরং নৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এর ফলে অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমানের সহধর্মিণী ফিরোজা পারভিন, কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইমরান খান এবং রেজিস্ট্রার মো. জালাল উদ্দীন। যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান যবিপ্রবির একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বর্তমানে জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
ধ্রুব/এস.আই