নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
৩দিন ধরে যশোর সদরের হালসা গ্রামের মাঠে ধানের ক্ষেত্রে পানি দিতে পারছেন না কৃষকরা। প্রায় সাড়ে ৫শ' বিঘা জমির ইরি ধান আবাদে অনিশ্চয়তায় পড়েছে চাষিরা। তাদের একই মাঠ থেকে এক রাত্রে চুরি হয়েছে ৮টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার । ধান বাঁচানোর চিন্তা, খেয়ে পরে নিজেদের বাঁচার চিন্তা, ঋণ শোধের চিন্তা সব এক সাথে ভর করেছে জমি মালিকদের উপর। েধানের শোকে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালে। গত শনিবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত সেচের কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোটরের সঙ্গে সংযুক্ত মোট ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা হয়েছে এবং সেচ সরবরাহ সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেচের কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোটরের সঙ্গে সংযুক্ত মোট ৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় হঠাৎ করেই পুরো এলাকার সেচ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। গত তিন দিন ধরে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক কৃষকরা জানান, মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এসে এই বিপর্যয় তাদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তারা বলেন, দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জমিতে পানি দিতে না পারলে ধানের শীষ পূর্ণতা পাবে না এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হালসা সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক সোনা গাজী জানান, এবারের আবাদ করতে তারা ঋণ ও ব্যক্তিগত ধার-দেনা করে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের সমিতির অধীনে সেচ প্রকল্পের ৪টি বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়েছে। ফলে ফসল ঘরে তুলতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে।
আরেক কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় অনেক কৃষক হতাশা ও দুশ্চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। এমনকি একজন কৃষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের হিসাব অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বিকল্প হিসেবে ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কৃষকদের সামনে কার্যত কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন করে সেচ পাম্প চালু করতে ট্রান্সফরমারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে এই মুহূর্তে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও এলাকায় একাধিকবার ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে তারা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত ট্রান্সফরমার সরবরাহ ও সেচ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে শুধু একটি মৌসুম নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতিই বড় ধাক্কায় পড়বে।
ধ্রুব/টিএম