Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দ্বীনের মশাল হাতে নবীন কাফেলা: যশোরে জেলা উলামা পরিষদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ,২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ,২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
দ্বীনের মশাল হাতে নবীন কাফেলা: যশোরে জেলা উলামা পরিষদের বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা

অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল কাদের কাসেমী, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য আলেম মুফতী মুজিবুর রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ

বসন্তের এক স্নিগ্ধ সকালে যশোরের ধর্মীয় অঙ্গনে বইছিল উৎসবের আমেজ। শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় 'মারকাযুল উম্মাহ' (মারকাজ মসজিদের পশ্চিম পাশে) আজ মুখরিত ছিল নবীন ও প্রবীণ আলেমদের মিলনমেলায়। যশোর জেলা উলামা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল দ্বীনের সেবায় আত্মনিয়োগকারী তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলেম ও শিক্ষার্থীরা সমবেত হতে থাকেন। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি আর টুপিতে সজ্জিত নবীন আলেমদের চোখে-মুখে ছিল আগামীর সুন্দর সমাজ গঠনের স্বপ্ন। প্রবীণ উলামায়ে কেরামের স্নেহমাখা উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক উচ্চতায় নিয়ে যায়। পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল কাদের কাসেমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য আলেম মুফতী মুজিবুর রহমান । অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সুযোগ্য সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী শহিদুল্লাহ কাসেমী। বক্তাদের সুললিত কণ্ঠের আলোচনা আর উপস্থিতিদের মনোযোগ এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব এবং সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আলেমদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তারা গুরুত্বারোপ করেন যে, বর্তমান অস্থির সমাজে ইসলামের সঠিক ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে নবীন আলেমদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কেবল কিতাবী জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, বরং সেই অর্জিত জ্ঞানকে সমাজ সংস্কারে কাজে লাগিয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া দ্বীনের খেদমতে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার চেয়ে ঐক্যবদ্ধ কাজের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, আলেমদের মাঝে ইস্পাতকঠিন ঐক্যই পারে যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আবেগঘন মুহূর্ত ছিল যখন নবীন আলেমদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এই স্মারক যেন কেবল একটি উপহার নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘ শিক্ষা জীবনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং আগামীর কঠিন দায়িত্বের এক গৌরবময় স্মারক। এসময় উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও মুরুব্বিরা নবীনদের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন এবং তাদের দ্বীনি পথের পথচলায় উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও শান্তি কামনায় এক বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত সকলের আমিন ধ্বনিতে মারকাযুল উম্মাহর প্রাঙ্গণ এক স্বর্গীয় আবেশে ভরে ওঠে। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল স্মৃতির পাতায় নয়, বরং নবীন আলেমদের হৃদয়ে দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগের নতুন সংকল্প জাগিয়ে দিয়ে শেষ হয়। যশোর জেলা উলামা পরিষদের এই উদ্যোগটি জেলার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

ধ্রুব/এস.আই

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)